ধর্ম ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২২ পিএম
রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতেকাফ। এটি এমন একটি ইবাদত, যেখানে একজন মুমিন দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন। তবে প্রতি বছরই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- মসজিদে না গিয়ে কি পুরুষরা বাড়িতে ইতেকাফ করতে পারেন? কোরআন, হাদিস ও ফিকহি নির্দেশনার আলোকে এর উত্তর স্পষ্ট।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পুরুষদের ইতেকাফ মসজিদেই করতে হয়। বাড়িতে বা অন্যকোনো স্থানে ইতেকাফের নিয়তে অবস্থান করলে তা শরিয়তসম্মত ইতেকাফ হিসেবে গণ্য হবে না। রমজানের সুন্নত ইতেকাফ, মানতের ওয়াজিব ইতেকাফ কিংবা নফল ইতেকাফ সবক্ষেত্রেই পুরুষদের জন্য মসজিদে অবস্থান করা শর্ত।
আরও পড়ুন: ইতেকাফের গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর তোমরা যখন মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় থাকো, তখন স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা করো না।’ এই আয়াতে ইতেকাফকে সরাসরি মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তাই ফুকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত হলো- পুরুষদের ইতেকাফ মসজিদেই সম্পন্ন করতে হবে।
রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া বলা হয়। অর্থাৎ কোনো এলাকার মসজিদে যদি অন্তত একজন ব্যক্তি ইতেকাফে বসেন, তাহলে পুরো এলাকার পক্ষ থেকে এই সুন্নত আদায় হয়ে যায়। কিন্তু যদি কেউ ইতেকাফে না বসেন, তাহলে সেই এলাকার সব মুসলমানের ওপর এর দায় বর্তায়।
আরও পড়ুন: ইতেকাফে স্মার্টফোন ব্যবহার: কখন জায়েজ, কখন ক্ষতির কারণ?
সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (স.) প্রতি রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। মৃত্যুর পূর্ববর্তী বছরে তিনি ২০ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। (সহিহ বুখারি) এই ধারাবাহিক আমল থেকে বোঝা যায় যে ইতেকাফের আদর্শ পদ্ধতি হলো মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মগ্ন থাকা।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নারীরা নিজ ঘরের নির্ধারিত নামাজের স্থানে ইতেকাফ করতে পারেন। পর্দা ও পারিবারিক পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের জন্য এই বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই; তাদের জন্য মসজিদে অবস্থান করাই শরিয়তসম্মত।
আরও পড়ুন: এক মহল্লায় একাধিক মসজিদ থাকলে ইতেকাফের বিধান কী
ইতেকাফ হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ ইবাদত। শারীরিক সক্ষমতা থাকলে পুরুষদের উচিত রমজানের শেষ দশকে নিকটস্থ মসজিদে ইতেকাফে বসা। এতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদতের সুযোগ বাড়ে এবং একই সঙ্গে এলাকার পক্ষ থেকেও সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় হয়ে যায়।
সুরা বাকারা: ১৮৭; সহিহ বুখারি, কিতাবুল ইতেকাফ; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ২; আলমগিরি, খণ্ড ১; রদ্দুল মুখতার, খণ্ড ২