images

ইসলাম

এফডিআর বা ডিপিএসের জাকাত দেওয়ার নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

পবিত্র রমজান মাস জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। সঞ্চয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে অনেকেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর (FDR) বা ডিপিএস (DPS) করে থাকেন। যেহেতু এগুলো নগদ অর্থের সঞ্চয়, তাই নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এগুলোর ওপর জাকাত প্রদান করা ফরজ। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিন্নতার কারণে এর জাকাত হিসাবের নিয়মে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।

এফডিআর (FDR)-এর জাকাত হিসাবের নিয়ম

এফডিআর-এর জাকাত মূলত ব্যাংকটি কোন নীতিতে পরিচালিত তার ওপর নির্ভর করে-

  • ইসলামি বা শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক: যদি এফডিআর শরিয়াহসম্মত ব্যাংকে হয়, তাহলে বছরশেষে মূল টাকা (Principal) এবং অর্জিত মুনাফা (Profit) উভয়ের ওপর ২.৫% হারে জাকাত দিতে হবে।
  • সুদভিত্তিক বা প্রচলিত ব্যাংক: প্রচলিত ব্যাংকের এফডিআর থেকে প্রাপ্ত ‘সুদ’ শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ সম্পদ নয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো- অর্জিত সুদের পুরো অংশ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব-দুঃখীদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। আর জাকাত দিতে হবে শুধুমাত্র মূল জমা টাকার (Principal Amount) ওপর। সুদের ওপর জাকাত হয় না, বরং তা বর্জনীয়।

আরও পড়ুন: জাকাত হিসাবের ভুল এড়াতে ৭টি জরুরি ফিকহি গাইডলাইন

ডিপিএস (DPS)-এর জাকাত হিসাবের নিয়ম

ডিপিএস-এর ক্ষেত্রে প্রতি মাসে কিস্তি আকারে টাকা জমা হয়। এর জাকাত হিসাবের পদ্ধতি হলো-

  • বার্ষিক মোট ব্যালেন্স: আপনি যদি আগে থেকেই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে ডিপিএস-এর প্রতিটি কিস্তির ওপর আলাদাভাবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আপনার জাকাত বর্ষপূর্তির দিনে ডিপিএস অ্যাকাউন্টে মুনাফাসহ মোট যত টাকা জমা (Total Balance) থাকবে, তার ওপর ২.৫% হারে জাকাত দিতে হবে।
  • হিজরি বা চান্দ্রবর্ষের গুরুত্ব: জাকাত মূলত হিজরি চান্দ্রবর্ষ (৩৫৪ দিন) হিসেবে প্রদান করা ফরজ। হিজরি বর্ষ অনুসরণ করলে জাকাতের হার হবে ২.৫%। (উল্লেখ্য, কেউ সৌরবর্ষ বা ইংরেজি বছর হিসেবে দিলে তাকে ২.৫৮% হারে জাকাত দিতে হবে)।

আরও পড়ুন: জাকাতের উপযুক্ত কারা? আত্মীয়-স্বজনদের জাকাত দেওয়ার বিধান কী?

নিসাব ও ঋণের সমন্বয়

নিসাব: এফডিআর বা ডিপিএস-এর টাকা যদি এককভাবে বা আপনার কাছে থাকা সোনা-রুপা ও নগদ টাকার সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি রুপার বাজারমূল্য) হয়, তবেই জাকাত ফরজ হবে।

ঋণ বিয়োগ: যদি কেউ এই এফডিআর বা ডিপিএস-এর বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, তবে জাকাতযোগ্য মোট সম্পদ থেকে ওই ঋণের পরিমাণ বিয়োগ করা যাবে। ঋণ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত আসবে।

ব্যাংক কর্তৃক জাকাত কেটে নেওয়া প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যাংক রমজানে সরকারি জাকাত ফান্ডের জন্য টাকা কেটে নেয়। এ ক্ষেত্রে করণীয়-

  • যদি ব্যাংক আপনার অনুমতি ছাড়া টাকা কাটে, তবে আপনার নিজের হিসাব করে দেখা উচিত যে পূর্ণ জাকাত (২.৫%) আদায় হয়েছে কি না। কারণ ব্যাংক অনেক সময় শুধুমাত্র সেভিংস অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট 
  • মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে টাকা কাটে, যা আপনার পুরো বছরের সব সম্পদের জাকাতের সমান নাও হতে পারে।
  • যদি আপনি ব্যাংককে লিখিতভাবে আপনার জাকাত আদায়ের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে থাকেন, তাহলে আলাদা করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে হিসাব মিলিয়ে নেওয়া অধিকতর নিরাপদ।

জাকাত একটি ফরজ ইবাদত যা সম্পদকে পবিত্র করে। এফডিআর বা ডিপিএস-এ গচ্ছিত অর্থের সঠিক জাকাত হিসাব করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। হিসাবের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা যেন আপনার ইবাদতকে ত্রুটিযুক্ত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

(রদ্দুল মুখতার: ৩/১৯৪; আলমগিরি: ১/১৭৫; আহসানুল ফতোয়া: ৪/২৬০)