ধর্ম ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। সেই সঙ্গে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের পর থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবি নামাজ আদায় করবেন।
আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দের অর্থ বিশ্রাম বা আরাম। এ নামাজ দীর্ঘ হওয়ায় প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত পরপর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় দোয়া ও তাসবিহ পড়া হয়। তাই এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বলা হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে (তারাবি বা কিয়ামুল্লাইল), তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৩৭)
আরও পড়ুন: তারাবির কিছু রাকাত ছুটে গেলে করণীয়
রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায়ের পর তারাবি নামাজ পড়তে হয়। সাধারণত দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে তারাবি আদায় করা হয়।
نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা, রাকাআ‘তাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।
যদি জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয়, তবে ‘সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা’-এর পর ‘ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম’ যুক্ত করবেন।
আরও পড়ুন: তারাবি নামাজ একা পড়া যাবে কি
তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত পরপর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় দেশে প্রচলিত একটি দোয়া অধিকাংশ মসজিদে পাঠ করা হয়। দোয়াটি হলো-
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ
সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত, সুবহানা জিল ইজ্জতি ওয়াল আযমতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।
আরও পড়ুন: মক্কা-মদিনায় তারাবি ১০ রাকাত: দেশের মুসল্লিদের করণীয় কী
তারাবি নামাজ শেষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ একটি মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে।
اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ - اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান নার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু, ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু, ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু, ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।