ধর্ম ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
বছর ঘুরে আবার আমাদের দুয়ারে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এটি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রমজান কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাস নয়, তাই প্রয়োজন মানসিক ও আমলি প্রস্তুতি। শরিয়তের আলোকে রমজানকে স্বাগত জানানোর ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রথম ধাপ হলো মানসিক প্রস্তুতি। রোজা ও তারাবিহসহ সব ইবাদতের প্রতি অন্তরে গভীর অনুরাগ তৈরি করা। ইবাদতকে ‘বোঝা’ মনে না করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
রমজানের বরকত লাভের শর্ত হলো হৃদয়কে গুনাহমুক্ত করা। তাই রমজান আসার আগেই বিগত দিনের সব অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করা জরুরি। যেন পবিত্র হৃদয়ে এই মোবারক মাসে প্রবেশ করা যায়।
আরও পড়ুন: রোজার জরুরি মাসয়ালাগুলো জেনে নিন
রমজানকে সরাসরি বরণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখার পর রাসুলুল্লাহ (স.) নিরাপত্তা, ঈমান ও শান্তির মাসনুন দোয়া পড়তেন।
রমজানের আগে থেকেই বেশি বেশি নেক আমলের অভ্যাস করা চাই। কোরআন তেলাওয়াত, উত্তম আচরণ, দান-সদকা ও জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) রমজানে অন্য সময়ের চেয়ে দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন।
রমজানের মূল লক্ষ্য হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন। তাই স্বাগত জানানোর অংশ হিসেবে কুপ্রবৃত্তি ও অহংকার দূর করে আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো উচিত। হাদিসের ভাষ্যমতে, যে ব্যক্তি রমজানে নিজেকে সংশোধন করতে পারল না, তার উপবাস থাকা নিরর্থক।
আরও পড়ুন: রোজা মাকরুহ হওয়ার ১৯ কারণ
সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদতের জন্য রোজা, সাহরি ও ইফতারের প্রয়োজনীয় মাসয়ালাগুলো আগেই জেনে নেওয়া জরুরি। দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ।
রমজানকে স্বাগত জানানো মানে হলো জীবনকে আল্লাহর রঙে রাঙানোর অঙ্গীকার। তওবা, নেক আমল ও আত্মশুদ্ধির সংকল্প নিয়ে আমরা যদি এই মাসকে বরণ করতে পারি, তবেই আমাদের সিয়াম সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের রমজানের পূর্ণ বরকত নসিব করুন। আমিন।
(সুরা নূর: ৩১; সুরা ইউনুস: ৫৮; সহিহ বুখারি: ৬, ১৯০৩; তিরমিজি: ৩৪৫১; ইবনে মাজাহ: ২২৪)