images

ইসলাম

শর্ত পূরণের আগে মান্নত আদায় করলে কি হবে?

ধর্ম ডেস্ক

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি কিংবা কোনো কাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়ার আশায় মানুষ মহান আল্লাহর নামে মান্নত বা ‘নজর’ করে থাকে। কিন্তু অনেকেই আবেগের বশবর্তী হয়ে বা শরিয়তের মাসয়ালা না জানার কারণে শর্ত পূরণ হওয়ার আগেই মান্নত বা মানতের টাকা/বস্তু দান করে দেন। এখন প্রশ্ন হলো- শর্ত পূরণের আগে দান করে দিলে কি মানত আদায় হবে?

শরয়ি সমাধান

ইসলামি ফিকহ বা শরিয়তের বিধান হলো- কোনো শর্তযুক্ত মানত আদায় করা ওয়াজিব হয় শুধুমাত্র সেই শর্তটি পূরণ হওয়ার পর। শর্ত পূরণ হওয়ার আগে মানত আদায় করা যায় না।
উদাহরণস্বরূপ: কেউ মানত করল- ‘চাকরি পেলে ১০ হাজার টাকা দান করব’। এখন চাকরি নিশ্চিত হওয়ার আগেই যদি সে ওই টাকা দান করে দেয়, তবে তা ‘মানত’ হিসেবে আদায় হবে না। এটি ‘সাধারণ নফল সদকা’ বা দান হিসেবে গণ্য হবে। পরবর্তীতে যখন তার চাকরি হবে (শর্ত পূরণ হবে), তখন তাকে মানত আদায়ের জন্য নতুন করে আবার ১০ হাজার টাকা দান করতে হবে।

প্রখ্যাত ফিকহি গ্রন্থ ‘বাদায়েউস সানায়ে’তে বলা হয়েছে- ‘যদি কেউ শর্তযুক্ত মানত করে... তবে শর্ত পাওয়ার পরই তা ওয়াজিব হবে। যতক্ষণ শর্ত পূর্ণ হবে না, ততক্ষণ তা আদায় করা ওয়াজিব নয়।’ (কিতাবুন নুজুর: ৫/৯৩)

আরও পড়ুন: কয়েকটি রোজা রাখব এভাবে মানত করলে কমপক্ষে কয়টি রাখা জরুরি

মানত কী?

শরিয়ত আবশ্যক করেনি এমন নফল কোনো ইবাদত বা আমল নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়াকে ‘নজর’ বা মানত বলা হয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন- ‘তারা যেন তাদের মানতসমূহ পূরণ করে...’ (সুরা হজ: ২৯)

সদকা নাকি মানত: কোনটি উত্তম?

শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মানত করার চেয়ে নগদ দান-সদকা করা অনেক বেশি উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। কারণ, সদকা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃশর্তভাবে দেওয়া হয়। আর মানত কৃপণের সম্পদ বের করার একটি মাধ্যম মাত্র। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘মানত কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না, এর মাধ্যমে কেবল কৃপণের সম্পদ বের করা হয়।’ (সহিহ বুখারি)

আরও পড়ুন: আকিকা ও মানতের কোরবানির গোশত খাওয়ার বিধান

গুনাহের কাজে মানত

শর্ত পূর্ণ হলেও গুনাহের কাজের মানত আদায় করা জায়েজ নেই। যেমন মাজারে সেজদা দেওয়া বা অবৈধ কোনো কাজের মানত করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এরূপ মানত করে যে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে মানত করে, সে আল্লাহর নাফরমানি করবে, সে যেন তাঁর নাফরমানি না করে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬৯৬)

(তথ্যসূত্র: বাদায়েউস সানায়ে: ৫/৯৩; সহিহ বুখারি: ৬৬৯৬; সুরা হজ: ২৯)