ধর্ম ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩০ পিএম
জামাতে নামাজে যোগদানের সময় ইমামকে সেজদারত অবস্থায় পাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। এ অবস্থায় শরিয়তসম্মত পদ্ধতি জানা ও সঠিকভাবে তা পালন করা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য অপরিহার্য, কারণ ভুল অনুসরণে পুরো রাকাতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ইমামকে সেজদায় পেলে তাকবিরে তাহরিমা বলার পর সরাসরি ইমামের সাথে সেজদায় চলে যেতে হবে। এই অবস্থায় আলাদাভাবে রুকু সম্পন্ন করলে তা ভুল হবে এবং ওই রাকাত নামাজে গণ্য হবে না।
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন- إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الصَّلَاةَ وَالإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الإِمَامُ ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে আসে, তখন ইমামকে যে অবস্থায় পায় সে যেন তাই করে। (জামে তিরমিজি: ৫৯১)
আরও পড়ুন
মাসবুক ভুলে ইমামের সঙ্গে সালাম ফেরালে নামাজ হবে?
তিন রাকাত হারানো মাসবুক সুরা মেলাবে কোন দুই রাকাতে?
রাকাত পাওয়ার শর্ত: ইমামের সঙ্গে রুকুতে সামান্য সময়ের জন্যও শরিক হতে পারলে পুরো রাকাত পেয়েছেন বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে রুকুর তাসবিহ পড়াও জরুরি নয়, শুধু রুকুর অবস্থান পাওয়াই যথেষ্ট।
রাকাত না পাওয়ার ক্ষেত্র: যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় একদম না পাওয়া যায় (ইমাম রুকু থেকে সোজা হয়ে গেলে), তাহলে মুক্তাদি সেই রাকাত পায়নি বলে গণ্য হবে এবং নামাজ শেষে ওই রাকাত নিজে আদায় করে নিতে হবে।
(মুহিতুল বুরহনি: ২/১৩৫; হালবাতুল মুজাল্লি: ২/১২৫; হিন্দিয়া: ১/৯১; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩০৫; বাহরুর রায়েক: ১/৩১২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ২/৪৩৩; ফাতহুল কাদির: ১/৪২০; দুররুল মুখতার: ২/৬০)
সুতরাং, ইমাম সেজদায় থাকলে নিজে রুকু না করে সরাসরি সেজদায় শরিক হওয়াই শরিয়তসম্মত পদ্ধতি। হাদিস ও ফিকহের এই স্পষ্ট নির্দেশনা মেনে চললেই নামাজ শুদ্ধ হবে এবং জামাতের পূর্ণ সওয়াব অর্জন সম্ভবপর হবে।