ধর্ম ডেস্ক
২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:০৫ পিএম
ইসলামে মানুষের শেষ আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি আমল পুরো জীবনের হিসাব বদলে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সারাজীবন গুনাহ করে আসা মানুষটিও যদি মৃত্যুর আগে তাওবার তাওফিক পান, তিনি জান্নাতবাসী হতে পারেন। আবার কেউ সারাজীবন ইবাদত-বন্দেগি করলেও মৃত্যুর আগে (নাউজুবিল্লাহ) এমন কোনো কাজে লিপ্ত হলে তাঁর সমস্ত আমল বৃথা হয়ে যেতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ জান্নাতিদের আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে তার ও জান্নাতের মাঝে শুধু এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাকদির প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামিদের মতো আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামিদের মতো আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার ওপর তাকদিরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতিদের মতো আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে।’ (সহিহ বুখারি: ৭৪৫৪)
একজন বান্দা জীবনের বেশিরভাগ সময় ইবাদত করলেন, কিন্তু শেষ বয়সে একটি গুনাহে জড়িয়ে পড়ায় সব আমল নষ্ট হয়ে গেল—এই হলো শেষ আমলের ভয়াবহতা! তাই মুসলমানদের উচিত আল্লাহর কাছে শেষ মুহূর্তে নেক আমলের তাওফিক চাওয়া। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কলেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২২০৩৪)
আরও পড়ুন: নেক আমল গৃহীত হওয়ার জন্য ৪ করণীয়
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ভালো-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর।’ সহিহ বুখারি: ৬৬০৭) অপর হাদিসে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়ে এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন আল্লাহর প্রতি ও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।’ (নাসায়ি: ৪২০২)
একজন ব্যক্তির জাহান্নামি হওয়া সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অনেক সময় মানুষ জান্নাতিদের মতো আমল করে, যা দেখে অন্যরা তাকে জান্নাতি মনে করে। অথচ সে জাহান্নামি। আবার অনেক সময় মানুষ জাহান্নামিদের মতো আমল করে, যা দেখে অন্য মানুষও তেমনই মনে করে, অথচ সে জান্নাতি।’ (সহিহ বুখারি: ৪২০৩)
আরও পড়ুন: অন্তরে নেক আমলের ঝোঁক সৃষ্টি হওয়া কীসের আলামত?
কখনোই নিজের আমল নিয়ে অহংকার করা উচিত নয়। বরং সর্বদা আল্লাহকে ভয় করতে হবে, নেক আমল করতে হবে এবং তাঁর রহমতের আশায় থাকতে হবে। প্রত্যেক দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে নেক আমল করার গুরুত্ব বেশি। কারণ, ভালো আমলের মাধ্যমে মৃত্যু হলে সারাজীবন গুনাহ করা বান্দাও জান্নাত লাভ করতে পারে।
রাসুল (স.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আমল করতে থাকো। কারণ যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান হবেন, তার জন্য সৌভাগ্যবানদের আমল সহজ হবে। আর যে দুর্ভাগা হবে, তার জন্য দুর্ভাগাদের আমল সহজ হবে।’ এরপর তিনি পাঠ করেন- ‘সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকি হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ।’ (সহিহ বুখারি: ৪৯৪৯)
আরও পড়ুন: আমল নিয়মিত করার পুরস্কার
আমরা কতটুকু আমল করতে পেরেছি বা এই সংক্ষিপ্ত হায়াতে নিজেকে কতটুকু তৈরি করতে পেরেছি এটাই ভাবার বিষয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের বারবার স্মরণ করান- ‘মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ তারা এখনো উদাসীনতার মধ্যে বিমুখ হয়ে আছে।’ (সুরা আম্বিয়া: ১)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শেষ মুহূর্তে নেক আমলের তাওফিক দান করুন। আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি ও তাকওয়া জাগ্রত করুন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে কালেমা পড়ার তাওফিক দিন। আমিন।