images

ইসলাম

‘ভুল স্বীকার’ মুমিনের মহান গুণ ও আত্মিক উন্নতির চাবিকাঠি

ধর্ম ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম

মানুষ হিসেবে ভুল করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। জেনে বা না জেনে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আমরা ভুল করে থাকি। কিন্তু ভুল করার পর তা স্বীকার না করা বা সেই ভুলের ওপর জেদ ধরে থাকা অহংকারের লক্ষণ, যা একজন মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর বিপরীতে, নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তাওবা করা একজন মুমিনের অন্যতম মহৎ গুণ। এই গুণ মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে।

ভুল স্বীকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভুল স্বীকার করার জন্য সৎসাহস প্রয়োজন। এটি এক ধরনের বিনয়, যা আল্লাহর কাছে প্রিয়। ভুল স্বীকারের মাধ্যমে তাওবার দরজা খুলে যায়, যার ফলে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা সহজ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা ভুলের পর অনুতপ্ত হয় (এবং তাওবা করে)।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন- ‘কিছু লোক আছে, যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা তাদের কর্মে ভালো ও মন্দ মিশ্রিত করেছে। অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ (সুরা তাওবা: ১০২) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ এমন বান্দাদের ভালোবাসেন, যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়।

আরও পড়ুন: ক্ষমা স্বয়ং আল্লাহর গুণ

নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবন থেকে শিক্ষা

নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনেও ভুল স্বীকারের অসাধারণ উদাহরণ রয়েছে। 
আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.): নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাঁরা অনুতপ্ত হয়ে দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং দয়া না করো, তবে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সুরা আরাফ: ২৩)। এই দোয়ার ফলে আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করেন।

ইউনুস (আ.): মাছের পেটে বন্দি হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)। এই স্বীকারোক্তি তাঁকে কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল।

হজরআবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.): একবার বিতর্কের সময় আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-কে কষ্ট দেন। পরে তিনি অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চান। রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়ে বলেন, ‘তোমাদের এই সঙ্গী আবু বকর আগে কল্যাণ লাভ করেছে।’ (সহিহ বুখারি: ৪৬৪০)

এর বিপরীতে, ইবলিস তার ভুল স্বীকার না করে অহংকারবশত অজুহাত দেখায়, যার ফলে সে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়।

আরও পড়ুন: যে গুনাহ আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গেই মাফ করে দেন

ভুল স্বীকার না করার পরিণতি

ভুল স্বীকার না করলে তা জেদের কারণে বাড়তে থাকে। অহংকার বৃদ্ধি পায়, যা আত্মিক পতন ঘটায়। এর ফলে নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ভুলকে স্বীকার করে সংশোধন না করলে তা ব্যক্তিকে একগুঁয়ে করে তোলে এবং অন্যের কাছে তার সম্মান কমে যায়।

মোটকথা, ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি নৈতিক সাহস এবং ইমানি শক্তির পরিচয়। যে ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের চেষ্টা করে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জগতেই সম্মানিত হয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে উন্নত করার এই পথই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভুল স্বীকার করে আন্তরিকভাবে তাওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।