ধর্ম ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৬ পিএম
‘আমিন’ বলার মর্মার্থ হলো ‘হে আল্লাহ! আমাদের দোয়া কবুল করুন।’ নামাজে সুরা ফাতেহার শেষে ‘আমিন’ বলা সুন্নতে মোয়াক্কাদা। এ বিষয়ে সকল মাজহাবের ইমামগণ একমত। তবে জোরে নাকি আস্তে ‘আমিন’ বলা উত্তম—এ নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নিম্নে দলিলভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।
হাদিসে এসেছে, ‘যখন ইমাম ‘গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াল্লিন’ বলে, তখন তোমরা ‘আমিন’ বলো। কেননা ফেরেশতারা ‘আমিন’ বললে, যার ‘আমিন’ ফেরেশতাদের সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭৪৬)
মুক্তিাদির ‘আমিন’ উচ্চারণ নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মুক্তাদি নীরবে ‘আমিন’ বলবেন। কেননা নবী (স.) বলেছেন, ‘আমিন’ হলো গোপন দোয়া (ইসরার), তাই তা নীরবে বলা উচিত।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ২৭৬৫)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও শাফেয়ি মাজহাবমতে, জোরে বলা মোস্তাহাব। তাদের দলিল হলো- ‘নবী (স.) যখন ‘ওয়ালাদ দোয়াল্লিন’ বলতেন, তখন জোরে ‘আমিন’ বলতেন, যাতে প্রথম সারির লোকেরা শুনতে পায়।’ (সুনান আবু দাউদ: ৯৩৬)
আরও পড়ুন: স্বামী কি মৃত স্ত্রীর গোসল দিতে পারবে?
ফুকাহায়ে কেরাম একমত যে, ‘আমিন’ মুখে উচ্চারণ করতে হবে, মনে মনে বলা যথেষ্ট নয়। কারণ নামাজের সকল তাসবিহ, তাকবির ও দোয়া স্পষ্টভাবে পড়ার নির্দেশ রয়েছে। হাদিসে মুখে ‘আমিন’ বলার কথা এসেছে, মনে মনে বলার কথা আসেনি।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘এটি ইখতিলাফে মুবাহ (অনুমোদিত মতপার্থক্য) এর অন্তর্ভুক্ত। যে জোরে বলে, তাকে নিন্দা করা যাবে না; যে আস্তে বলে, সেও ভুল করছে না। এটি রাফে ইয়াদাইনের মতোই একটি বিষয়।’ (জাদুল মাআদ: ১/৭০)
আরও পড়ুন: সেজদার সময় আগে হাঁটু জমিনে রাখবেন নাকি হাত?
হানাফি অনুসারীগণ নীরবে ‘আমিন’ বলবেন। শাফেয়ি অনুসারীগণ জোরে বলবেন। তবে, জামাতের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ইমাম যে পদ্ধতি অনুসরণ করেন, মুক্তাদিদের তা মান্য করা উত্তম। কারণ, এতে গুনাহ হবার আশঙ্কা নেই; যেহেতু দুটোর পক্ষেই দলিল রয়েছে। মনে রাখতে হবে, এটি ফুরুর বিষয় (মৌলিক নয়), তাই কারো পদ্ধতিকে ভুল বলা যাবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ করো না।’ (সুরা আনফাল: ৪৬)