ধর্ম ডেস্ক
০৯ জুন ২০২৫, ০৫:২২ পিএম
ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করতে হয়। এই ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ আকিদা ও তাওহিদের সঠিক ধারণা রাখা জরুরি। তবে সমাজে কোরবানিকে কেন্দ্র করে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার দেখা যায়, যা ইবাদতের বিশুদ্ধতা নষ্ট করতে পারে এবং কখনো কখনো শিরকের আশঙ্কাও তৈরি করে। শিরক ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ, যা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী।
কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় আল্লাহর নামের পরিবর্তে অন্যকারো উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা- যেমন কোনো পীর-আউলিয়ার নামে জবাই করার বিশ্বাস রাখা তাওহিদের পরিপন্থী। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘কাজেই যে পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তা তোমরা খাও যদি তাঁর নিদর্শনাবলীতে তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক।’ (সুরা আনআম: ১১৮)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জবাই করে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুন: কোরবানির গোশতে আত্মীয়দের হক কতটুকু, না দিলে গুনাহ হবে?
অনেক জায়গায় কোরবানির গোশত কবরস্থান, ওরস বা ফাতিহার উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। যদি এই কাজকে কোনো গায়েবি শক্তি বা মৃত ব্যক্তির নিকট কল্যাণ পৌঁছানোর স্বাধীন ক্ষমতা আছে—এমন বিশ্বাসের ভিত্তিতে করা হয়, তাহলে তা ভ্রান্ত আকিদার দিকে নিয়ে যাবে।
তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা বা সদকা হিসেবে গোশত বিতরণ করা শরিয়তসম্মত ও সওয়াবের কাজ। সমস্যা হয় তখনই, যখন এতে আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো কাছে উপকার বা ক্ষতির স্বাধীন ক্ষমতা আছে—এমন বিশ্বাস যুক্ত হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘বলুন, আমার সালাত, কোরবানি, জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম: ১৬২)
কোরবানিকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু কুসংস্কারও দেখা যায়, যেমন-
ইসলামের দৃষ্টিতে এসব বিশ্বাস তাওহিদের শিক্ষা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার পরিপন্থী। তবে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের আশা রেখে কোনো নেক আমল করা ভিন্ন বিষয়।
আরও পড়ুন: কোরবানির গোশত বণ্টনে যে ভুল করা যাবে না
কোরবানির আরেকটি বড় সমস্যা হলো রিয়া বা লোক দেখানোর মনোভাব। যদি কেউ মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে কোরবানি করে, তবে তা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘আমি তোমাদের জন্য ছোট শিরকের ভয় করি।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- ‘রিয়া (লোক দেখানো কাজ)।’ (মুসনাদে আহমদ)
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো তাওহিদ, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগ এই ইবাদতের মূল ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭)
কোরবানি একটি মহান ইবাদত, যা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সম্পাদন করতে হবে। এতে কোনো ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার বা লোক দেখানোর মনোভাব যুক্ত হলে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত বিশুদ্ধ আকিদা ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে কোরবানি সম্পাদন করা এবং সন্দেহজনক ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা।