images

ইসলাম

রমজানে অল্প কদিন ইতেকাফ করা যায়?

ধর্ম ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৫, ০৮:২৩ পিএম

মুমিন হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পবিত্রতা এবং গুনাহমুক্ত জীবনের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে পবিত্র রমজান। রমজানের শেষ দশকের সবচেয়ে মহিমান্বিত ইবাদত হলো ইতেকাফ। এটি কেবল আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমই নয়, বরং লাইলাতুল কদরের মহাসৌভাগ্য অন্বেষণের এক আধ্যাত্মিক সাধনা। কর্মব্যস্ততার কারণে পুরো দশ দিন ইতেকাফে বসা অনেকের জন্য কঠিন হলেও, অন্তত কয়েক দিন বা নফল ইতেকাফের মাধ্যমেও সেই বরকতের অংশীদার হওয়া সম্ভব।

মাসনুন ইতেকাফ ও তার বিধান

রমজানের ২০ তারিখ ইফতারের আগমুহূর্ত থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করাকে ‘সুন্নত ইতেকাফ’ বা মাসনুন ইতেকাফ বলা হয়। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সুন্নত পালন করেছেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবায়ে কেরামও এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। (সহিহ বুখারি: ১/২৭১) সুন্নত ইতেকাফের জন্য শেষ দশ দিনই মসজিদে থাকা আবশ্যক।

আরও পড়ুন: ইতেকাফের গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

নফল ইতেকাফ: অল্প সময়ের ইবাদত

কারো যদি দশ দিন ইতেকাফ করার সামর্থ্য বা সময় না থাকে, তবে তিনি চাইলে রমজানের যেকোনো সময় ১, ২ বা ৩ দিন ইতেকাফ করতে পারেন। শরিয়তের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘নফল ইতেকাফ’। যদিও এটি মাসনুন বা সুন্নত ইতেকাফের সমমর্যাদার নয়, তবুও এর সওয়াব ও গুরুত্ব অপরিসীম। এমনকি আপনি যদি মসজিদের নিয়তে প্রবেশ করে কয়েক ঘণ্টাও অবস্থান করেন, তবে সেই সময়টুকুর জন্য আপনি ইতেকাফের সওয়াব পাবেন।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনা

রমজানের শেষ তিন-চার দিন নফল ইতেকাফ করলেও লাইলাতুল কদর পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। কারণ হাদিস অনুযায়ী শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবে কদরের সম্ভাব্য রাত। আলেমদের বড় একটি অংশ হজরত উবাই ইবনু কাব (রা.) ও ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনার ভিত্তিতে ২৭তম রাতটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন (সহিহ মুসলিম: ২৬৬৮)। সুতরাং যারা অন্তত শেষ কয়েক দিন মসজিদে কাটাবেন, তারা অন্তত দুই-তিনটি বিজোড় রাত ইবাদতের মধ্যে কাটানোর সুযোগ পাবেন, যা তাদের লাইলাতুল কদর পাওয়ার পথ সুগম করবে।

আরও পড়ুন: ‘ইতেকাফ’ জাহান্নাম থেকে মুক্তির অনন্য আমল 

ইতেকাফকারীর মর্যাদা ও পুরস্কার

ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) চমৎকার দুটি সুসংবাদ দিয়েছেন-
১. গুনাহ থেকে সুরক্ষা: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘ইতেকাফকারী গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে এবং তার আমলনামায় সকল নেক আমলকারীর মতো নেকি লেখা হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ১৭৮১)
২. জাহান্নাম থেকে দূরত্ব: অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতেকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের আগুনের মাঝে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন; যার প্রতিটি পরিখার দূরত্ব পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি।’ (তাবারানি: ৭৪২০; হাকেম)

পার্থিব ব্যস্ততা আমাদের অনেক বড় বড় সওয়াব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তবে মাহে রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে সুযোগ থাকলে আমরা অন্তত কয়েক দিনের জন্য নফল ইতেকাফের নিয়ত করতে পারি। এতে একদিকে যেমন আল্লাহর ঘরে নিভৃতে সময় কাটানোর সুযোগ মিলবে, অন্যদিকে লাইলাতুল কদরের মহাসম্মানিত রাতটি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।