images

ইসলাম

নবীজির কথাবার্তার ১০ সৌন্দর্য

ধর্ম ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম

প্রিয়নবী (স.) সর্বগুণে গুণান্বিত ছিলেন। তাঁর কথাবার্তা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, শারীরিক গঠন প্রত্যেকটি বিষয়ই অতুলনীয়। তিনি শুদ্ধভাষী, সুমার্জিত ও আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। তাঁর কথায় বাহুল্য, অতিশয়োক্তি ও সীমালঙ্ঘন ছিল না। তাঁর কথাগুলো ছিল পরিশুদ্ধ, পরিমিত, শালীন ও সুরুচিসম্পন্ন। তিনি রুক্ষ ও কর্কশ মেজাজের ছিলেন না, কখনো মন্দ কথা বলতেন না। রাজা-বাদশাহ ও নেতাদের মতো গম্ভীর হয়ে বসেও থাকতেন না। নবীজির কথাবার্তার ১০টি অনন্য সৌন্দর্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সত্যবাদিতা
যখনই কথা বলতেন, সত্য কথাই বলতেন, সত্যবাদী হিসেবে শৈশব থেকে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। রাসুল (স.) বলেন, ‘তুমি লিখে রাখ, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এ মুখ থেকে সর্বাবস্থায় সত্য ছাড়া আর কিছু বের হয় না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৪৬)

২. মিষ্টতা
কথাবার্তায় ও আচার-আচরণে তিনি কোমলতা অবলম্বন করতেন। কর্কশ ও রূঢ় ভাষায় কথা বলতেন না এবং কাউকে সম্বোধনও করতেন না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি যদি কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে মানুষ আপনার থেকে দূরে চলে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)

আরও পড়ুন: সুন্দর আচরণের প্রতিদান

৩. বিশুদ্ধতা
রাসুলুল্লাহ (স.) সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী ছিলেন। তাঁর উচ্চারণ, শব্দ প্রয়োগ ও বাচনভঙ্গি সবই ছিল বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেছি এবং সাদ গোত্রে প্রতিপালিত হয়ে তাদের বিশুদ্ধ ভাষা রপ্ত করেছি, এ জন্যই আমি তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাগ্মী।’ (মুজামুল কাবীর, তাবরানী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা-৩৫)

৪. স্পষ্টতা
রাসুলুল্লাহ (স.) সুস্পষ্টভাবে কথা বলতেন। স্পষ্টতা তাঁর কথার অন্যতম গুণ ছিল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (স.)-এর কথা এত সুস্পষ্ট ছিল যে প্রত্যেক শ্রোতা তাঁর কথা বুঝত।’ (আবু দাউদ: ৪৮৩৯)

৫. ধীরস্থিরতা
রাসুল (স.)-এর কথার অন্যতম গুণ ছিল ধীরস্থিরতা। তিনি কথাবার্তায় ধীরস্থির ছিলেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (স.) এমনভাবে কথা বলতেন, যদি কোনো গণনাকারীর গণনা করতে ইচ্ছা করে তবে সে গুনতে পারবে।’ (মুসলিম: ৭৩৯৯)

৬. শালীনতা
রাসুল (স.)-এর কথাবার্তা শালীনতায় সজ্জিত ছিল। তিনি কখনো অশালীন কথা বলেননি। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (স.) অশালীন, অভিশাপকারী ও গালিদাতা ছিলেন না। তিনি কাউকে তিরস্কার করার সময় শুধু এটুকু বলতেন—কী হলো তার? তার কপাল ধূলিমলিন হোক।’ (বুখারি: ৬০৬৪)

আরও পড়ুন: ঝগড়া এড়িয়ে চলার প্রতিদান

৭. হৃদয়গ্রাহিতা
রাসুল (স.)-এর কথা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ছিল। এমনভাবে কথা বলতেন শ্রোতাদের হৃদয়ে তা প্রভাব ফেলত। শ্রোতাদের কেউ বিরক্তি প্রকাশ করত না। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘নবীজি (স.) মাঝেমধ্যে আমাদের উপদেশ দিতেন, যেন আমরা বিরক্ত না হই।’ (বুখারি: ৬৮)

৮. বাহুল্যমুক্ত
রাসুলুল্লাহ (স.) কখনো প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইসলাম পালনের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা।’ (তিরমিজি: ২৩১৮)

আরও পড়ুন: নিজের ধ্বংসের জন্য লাগামহীন একটি কথাই যথেষ্ট

৯. মর্মসমৃদ্ধ
রাসুলুল্লাহ (স.) ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। কথা কম বলতেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে বলতেন। এমন সংক্ষিপ্ত কথা বলতেন, যা শব্দ বা উচ্চারণের দিক থেকে হতো অল্প, কিন্তু ব্যাপক অর্থবোধক। রাসুল (স.) বলেন, ‘আমাকে দান করা হয়েছে সর্বমর্মী বচন।’ (মুসলিম: ৫২৩)

১০.  সময়োপযোগী
রাসুলুল্লাহ (স.) পরিস্থিতি ও শ্রোতার স্তর বুঝে কথা বলতেন। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন। পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে গলার স্বর উঁচু-নিচু করতেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুল (স.) তাঁর কথাকে তিনবার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করতেন, যেন তা ভালোভাবে বোঝা যায়।’ (শামায়েলে তিরমিজি: ২২২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নবীজির জীবনের প্রত্যেকটি বিষয় যত বেশি সম্ভব অনুসরণ অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।