অযথা কথা সবসময় পরিত্যাজ্য। কিছু বলার আগে চিন্তা করে দেখতে হবে, কথাটির কোনো কুফল আছে কি না। আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয়ে তো অবশ্যই সংযত হতে হবে। তা নাহলে এমন হতে পারে যে, মুখের সামান্য এক কথায় নিজের ইহকাল পরকাল দুটোই ধ্বংস হয়ে গেল। বিষয়টি মহানবী (স.) সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন উম্মতের কাছে।
জুনদুব (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! অমুককে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা বললেন, কে আমার নামে শপথ করে বলে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? বরং আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি। (সহিহ মুসলিম: ৬৫৭৫-১৩৭/২৬২১)
বিজ্ঞাপন
উল্লেখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেছেন এই মর্মে যে, আল্লাহ কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করবেন কি করবেন না—এ বিষয়ে শপথ করে বলার অধিকার কারো নেই। এমন করলে ওই ব্যক্তির দুনিয়া ও পরকাল ধ্বংস হয়ে যাবে।
এটি চমৎকার শিক্ষণীয় হাদিস। এ থেকে জানা গেলো, আল্লাহ তাআলার এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয়ে লাগামহীন কথা বলার মর্মার্থ হলো- সে আল্লাহর ওপর ফয়সালা করে বসল। মূলত এটি আল্লাহকে পথ দেখানোর মতো বেআদবি। এ কারণেই তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে হতাশা ও ক্ষতি অবধারিত হয়ে গেলো।
বিজ্ঞাপন
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর ইচ্ছাধীন কোনো বিষয়ে নিশ্চিত করে কথা বলা সমীচীন নয়। আবার অনর্থক শপথ করাও ভালো কাজ নয়। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে—‘আর তুমি তার অনুসরণ করো না, যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত।’(সুরা কালাম: ১০)
মুমিনের জিহ্বা মূলত সজিব থাকবে ভালো কথা ও জিকিরের মাধ্যমে। নবী কারিম (স.) বলেন, ‘আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তোমার জিহ্বাকে সজীব রাখো।’ (তিরমিজি: ৩৩৭৫) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হাদিসের দিকনির্দেশনা যথাযথ মেনে চলার তাওফিক দিন। দুনিয়া ও পরকালে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংযত কথা বলার তাওফিক দিন। আমিন।

