images

ইসলাম

যে দোয়া পড়লে ফেরেশতারা সওয়াব লেখার জন্য প্রতিযোগিতা করেন

ধর্ম ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:০১ পিএম

দোয়া মুমিনের শক্তিশালী অস্ত্র। দোয়ার মাধ্যমে মুমিন যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান ও জমিনের নূর।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৬৫, মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৪৯২) বান্দা যত দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা ততই খুশি হন। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা চাইলে তিনি খুশি হন।’ (তিরমিজি: ৩৫৭১)

নামাজের ভেতরে একটি দোয়া আছে, যেটি পড়লে ফেরেশতাদের একটি দল সওয়াব লেখার প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন। দোয়াটি রুকু থেকে দাঁড়ানোর পর পড়তে হয়। আমরা সাধারণত রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বা ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ এতটুকুই বলে থাকি। এটার সাথে কিছু অংশ যোগ করতে হয় দোয়াটি পড়ার জন্য।

পুরো দোয়াটি হলো- رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ উচ্চারণ: ‘রব্বানা ওয়া লাকালহামদ হামদান কাছিরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি।’ অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আর আপনার জন্যই সব প্রশংসা; অধিক প্রশংসা; পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা।’ (সহিহ বুখারি: ৭৯৯)

আরও পড়ুন
রুকু-সেজদায় ৩টি দোয়া পড়ার অভ্যাস করুন
সেজদাতে বাংলায় দোয়া করা যাবে?

হজরত রিফাআহ ইবনু রাফি যুরাক্বি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার আমরা নবীজি (স.)-এর পেছনে নামাজ আদায় করলাম। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে বললেন- سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ), তখন পেছন থেকে এক সহাবি বললেন- رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ (রব্বানা ওয়া লাকালহামদ হামদান কাছিরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি)। নামাজ শেষ করে নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরুপ বলেছে? সেই সাহাবি বললেন- ‘আমি’। তখন নবীজি বললেন, আমি দেখলাম ৩০ জনের অধিক ফেরেশতা এর সওয়াব কে আগে লিখবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।’ (সহিহ বুখারি: ৭৯৯)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক নামাজের রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হাদিসে শেখানো আল্লাহর প্রশংসা সম্বলিত দোয়া বা তাসবিহটি পড়ার মাধ্যমে নবীজির ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা লাভ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।