ধর্ম ডেস্ক
১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:০৮ পিএম
ইসলামে সর্বোত্তম ও একমাত্র অভিবাদন হলো সালাম। আর মুসাফাহা হলো সালামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাষণ জানানোর সুন্নত অনুষঙ্গ। মুসাফাহায় আন্তরিকতা বাড়ে, হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করো, এতে তোমাদের অন্তরে বিদ্যমান প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে। একে অন্যকে হাদিয়া প্রদান করো, এতে হৃদ্যতা সৃষ্টি হবে এবং শত্রুতা ও ঘৃণা দূরীভূত হবে।’ (আবু দাউদ: ৫২১২)
বারাআ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু দাউদ: ৫২১২)
আরও পড়ুন: ইসলামে ‘সালাম’ ছাড়া অন্য অভিবাদন নেই
সাহাবিরা মুসাফাহায় অভ্যস্ত ছিলেন। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, ‘আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম- নবী (স.)-এর সাহাবিগণের মধ্যে কি মুসাফাহা চালু ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ।’ (সহিহ বুখারি: ৬২৬৩)
মুসাফাহার পর হাত বুকে লাগাতে হয় না, মাথা নিচু করার কোনো বিধান নেই। এরকম কোনোকিছু হাদিসে বর্ণিত হয়নি। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (স.) বলেন, এক ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে থেকে কেউ তার ভাইয়ের সঙ্গে কিংবা তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তার সামনে কি মাথানত করবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমা দেবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে কি তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (তিরিমিজি: ২৭২৮)
আরও পড়ুন: মাথা নিচু করে পা ছুঁয়ে সালাম, ইসলাম কী বলে
তবে মুসাফাহা দুই হাতে করা সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, (মুসাফাহার সময়) আমার হাতটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর দুই হাতের মধ্যে ছিল। (বুখারি: ৫/২৩১১)
আর মুসাফাহার সময় এ দোয়াটি গুনাহ মাফের কারণ হবে— ‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন’। হাদিসে এসেছে, যখন দুজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করে, আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) ও শোকর (কৃতজ্ঞতা) করে এবং আল্লাহর কাছে মাগফিরাত (ক্ষমা) কামনা করে তো আল্লাহ উভয়কে মাগফিরাত দান করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৬৯)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক বিষয়ে নবীজির সুন্নত যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।