প্রবাস ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
একটি শিশু ইউরোপের কোনো শহরে জন্মেছে। তার প্রথম কান্না শোনা গেছে পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালি বা স্পেনের কোনো হাসপাতালে। তার প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুল, প্রথম বন্ধু, প্রথম স্বপ্ন-সবকিছু গড়ে উঠছে ইউরোপের সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতর। স্কুলে সে পর্তুগিজ, ফরাসি, ইতালিয়ান কিংবা ইংরেজিতে কথা বলে। বন্ধুদের সঙ্গেও সেই ভাষায় তার স্বাভাবিক যোগাযোগ।
ঘরে ফিরে হয়তো বাবা-মা বাংলায় কথা বলেন। কিন্তু সন্তানটি সবসময় বাংলায় উত্তর দেয় না। কখনো একটি বাক্য বাংলায় শুরু করে অন্য ভাষায় শেষ করে। কখনো বাবা-মায়ের বলা অনেক কথা বুঝলেও নিজে বাংলায় উত্তর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।
একদিন বাবা হয়তো সন্তানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘বাংলাদেশে যাবে?’
সন্তান উত্তর দেয়, ‘হ্যাঁ, কিন্তু সেখানে আমি কী করব?’
এই ছোট্ট প্রশ্নটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে বড় একটি বাস্তবতা।
প্রশ্ন হলো, প্রবাসীর সন্তানরা কি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
এটি কোনো প্রজন্মকে দোষারোপ করার প্রশ্ন নয়। বরং আমাদের নিজেদের দিকে তাকানোর প্রশ্ন। আমরা যারা প্রবাসে সন্তানদের বড় করছি, পরিবার ও সমাজ হিসেবে আমরা কী করছি? আর রাষ্ট্রই বা কী করছে?
জন্মভূমি থেকে দূরে, শিকড়ের কাছাকাছি কতটা?
প্রথম প্রজন্মের প্রবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সাধারণত সরাসরি। তাঁদের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের মাটিতে। গ্রামের পথ, নদী, ঈদ, মসজিদ, স্কুল, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন-সবকিছু তাঁদের স্মৃতির অংশ।
কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বাংলাদেশকে অনেক সময় দেখে বাবা-মায়ের গল্পে, ছুটির সফরে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে, বাংলা গান বা খাবারে, কিংবা দাদা-নানার স্মৃতিতে। তাদের বাস্তব জীবন গড়ে ওঠে অন্য দেশের শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে। এ কারণে দ্বিতীয় প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলা শুধু আবেগের বিষয় নয়, সচেতন উদ্যোগেরও বিষয়।
একটি শিশুর সঙ্গে তার শিকড়ের সম্পর্ক তৈরির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি হলো ভাষা। বাংলা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। বাংলা একটি ইতিহাস, একটি সাহিত্য, একটি সংস্কৃতি এবং একটি স্মৃতির দরজা। কিন্তু প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে সেই দরজা সবসময় খোলা থাকে না।
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি পরিবার নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক অভিভাবক সন্তানদের heritage language বা পারিবারিক ভাষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবে সময়ের অভাব, পর্যাপ্ত সহায়ক উপকরণের সীমাবদ্ধতা এবং চারপাশের প্রভাবের কারণে সেই চেষ্টা সবসময় সহজ হয় না।
২০২৬ সালের আরেকটি গবেষণায় যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি পরিবারের শিশুদের ভাষা-চর্চা নিয়ে দেখা যায়, শিশুরা পরিবারের ভাষা, ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে চলাচল করে। অর্থাৎ ভাষার ব্যবহার শুধু পারিবারিক ইচ্ছায় নির্ধারিত হয় না; শিশুর সামাজিক পরিবেশও সেখানে বড় ভূমিকা রাখে।
ইতালির বাংলাদেশি পরিবার নিয়েও গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলা অনেক পরিবারের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ভাষাটির সাবলীলতা সবসময় একই রকম থাকে না।
তাহলে প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু সন্তানকে বলব, ‘বাংলা বলো’? নাকি তাকে বাংলা বলার মতো একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করব?
অনেক দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সপ্তাহান্তে বাংলা স্কুল পরিচালনা করছেন। কেউ বাংলা পড়াচ্ছেন, কেউ গান শেখাচ্ছেন, কেউ নাচ, আবৃত্তি কিংবা সংস্কৃতিচর্চার আয়োজন করছেন। ইউরোপে শিশুদের বাংলা শেখানোর বিভিন্ন উদ্যোগও রয়েছে। জার্মানি, পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের শিশু ও তরুণদের জন্য বাংলা শেখার উদ্যোগে প্রবাসী পরিবারের সন্তানদের অংশগ্রহণের কথাও উঠে এসেছে। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
কিন্তু বাংলা শেখানোকে শুধু অক্ষর, বানান ও ব্যাকরণের মধ্যে আটকে রাখলে হবে না। একটি শিশুকে জানতে হবে, বাংলা ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছিল। জানতে হবে একুশে ফেব্রুয়ারি কেন গুরুত্বপূর্ণ। জানতে হবে রবীন্দ্রনাথ কে, নজরুল কে, জসীমউদ্দীন কে। জানতে হবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা শুধু নদীর নাম নয়, এগুলো একটি জাতির স্মৃতির অংশ।
বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, লোকসংস্কৃতি, সংগীত, খাবার, পোশাক, প্রকৃতি-সবকিছুকে শিশুর কাছে আনন্দের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। কারণ সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া যায় না, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হয়।
বাংলাদেশকে শুধু ‘বাবা-মায়ের দেশ’ নয়, নিজের দেশ হিসেবে অনুভব করাতে হবে প্রবাসী শিশুকে যদি আমরা শুধু বলি, ‘বাংলাদেশ তোমার বাবার দেশ’, তাহলে সম্পর্কটি হয়তো দূরত্বেই থেকে যাবে।
তাকে বলতে হবে, বাংলাদেশ তোমারও। কিন্তু শুধু বললে হবে না। তাকে সেই বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচিত হতে দিতে হবে।
ছুটিতে বাংলাদেশে গেলে তাকে শুধু আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া নয়, দেশের প্রকৃতি দেখাতে হবে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। ঐতিহাসিক স্থান দেখাতে হবে। স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। বাংলা বই কিনে দিতে হবে। স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
একটি শিশু যখন নিজের চোখে বাংলাদেশের মানুষের জীবন দেখবে, নিজের হাতে গ্রামের মাটিতে হাঁটবে, দাদা-নানার গল্প শুনবে, নদীর পাড়ে দাঁড়াবে, তখন বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু বইয়ের পাতায় থাকবে না।
এখানে আমাদের একটি ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রবাসীর সন্তান বাংলা পুরোপুরি বলতে না পারলে সে বাংলাদেশকে ভালোবাসে না-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
একজন শিশু একাধিক সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে। সে একই সঙ্গে পর্তুগিজ, ফরাসি, ইতালিয়ান, ব্রিটিশ বা আমেরিকান সমাজের অংশ হতে পারে এবং বাংলাদেশি পরিচয়ও ধারণ করতে পারে। বরং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে শক্তিতে পরিণত করা দরকার। যে শিশু বাংলা ও ইংরেজি জানে, কিংবা বাংলা ও পর্তুগিজ জানে, সে দুই সমাজের মধ্যে সেতু হতে পারে। যে তরুণ বাংলাদেশের সংস্কৃতি জানে এবং ইউরোপের ব্যবসা বোঝে, সে ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা হতে পারে।
যে তরুণ বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানে, সে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রজন্মকে শুধু ‘বাংলাদেশি সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব’ দিলে হবে না। তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অংশীদার হওয়ার সুযোগও দিতে হবে।
এখানে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক ও যুব কার্যক্রম আয়োজন করে। যেমন, লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের যুব উৎসব আয়োজনের তথ্য রয়েছে। গ্রিসেও বাংলাদেশ দূতাবাস শিশু ও শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা যেতে পারে।
প্রতিটি দূতাবাসে বছরে অন্তত কয়েকটি Second Generation Bangladesh Programme আয়োজন করা যেতে পারে।
সেখানে থাকতে পারে-
বাংলা ভাষা কর্মশালা,
বাংলাদেশ পরিচিতি কোর্স,
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা,
শিশু-কিশোর সাহিত্য উৎসব,
বাংলা গান ও কবিতা,
চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা,
বাংলাদেশ ভ্রমণ কর্মসূচি,
তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলন।
দূতাবাস শুধু পাসপোর্ট বা কনস্যুলার সেবার জায়গা নয়। প্রবাসী প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি জীবন্ত সেতুও হতে পারে।
রাষ্ট্র সবকিছু করবে, এমন প্রত্যাশাও বাস্তবসম্মত নয়। প্রবাসী সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব আছে। অনেক কমিউনিটি সংগঠন বছরে ঈদ, পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস পালন করে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু অনুষ্ঠান করলেই দ্বিতীয় প্রজন্ম বাংলাদেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হবে না। তাদের জন্য নিয়মিত কার্যক্রম দরকার।
শিশুদের বই পড়ার ক্লাব হতে পারে। তরুণদের জন্য বাংলাদেশ বিষয়ক বিতর্ক হতে পারে। বাংলাদেশে সামাজিক কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সফর হতে পারে। গ্রীষ্মকালীন বাংলাদেশ ক্যাম্প হতে পারে। অর্থাৎ অনুষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতায় যেতে হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রজন্মের সম্পর্ক শুধু ভাষা ও সংস্কৃতিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাদের বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কেও জানতে হবে।
বাংলাদেশে কী তৈরি হয়?
কোন পণ্য বিদেশে রফতানি হয়?
দেশের প্রযুক্তি খাত কোথায় যাচ্ছে?
স্টার্টআপের সুযোগ কী?
কৃষি, পোশাক, খাদ্য, আইটি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে কী সম্ভাবনা আছে?
আজ যে শিশু ইউরোপে বড় হচ্ছে, আগামী দিনে সে হতে পারে একজন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রকৌশলী, গবেষক বা পেশাজীবী।
তার যদি বাংলাদেশের বাজার, মানুষের প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা থাকে, তাহলে সে একদিন বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে ব্যবসা ও জ্ঞানের সেতু হতে পারে।
এ কারণে দ্বিতীয় প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা শুধু সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়; এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও।
প্রবাসীর সন্তানদের বাংলাদেশমুখী করার কথা বললে বাংলাদেশকেও তাদের জন্য আকর্ষণীয় হতে হবে।
তারা যদি বাংলাদেশে পড়তে চায়, কী সুযোগ আছে? তারা যদি কোনো ব্যবসা করতে চায়, কোথায় যাবে? তারা যদি বাংলাদেশে প্রযুক্তি বা সামাজিক উদ্যোগ শুরু করতে চায়, কে সহযোগিতা করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর সহজ হওয়া দরকার।
দ্বিতীয় প্রজন্মকে শুধু ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসো’ বললে হবে না। বলতে হবে, ‘বাংলাদেশ তোমার জন্যও একটি সম্ভাবনার দেশ।’
কখনো কখনো আমরা সন্তানদের মনে এমন ধারণা তৈরি করি যে আধুনিক হতে হলে শিকড় থেকে দূরে যেতে হবে। এটি ভুল।
বাংলা জানা একজন শিশুকে পর্তুগিজ জানতে বাধা দেয় না। বাংলা সংস্কৃতি জানা একজন তরুণকে ইউরোপীয় সমাজে সফল হতে বাধা দেয় না। বরং একাধিক ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি তাকে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।
তাই সন্তানকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা মানে তাকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করা নয়।
বরং তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যে নিজের বর্তমান সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারে এবং নিজের শিকড়কেও সম্মানের সঙ্গে ধারণ করতে পারে।
প্রথম প্রজন্মের প্রবাসীরা একদিন চলে যাবেন। দ্বিতীয় প্রজন্মই তখন থাকবে। তখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটি কার হাতে থাকবে?
আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা শুধু পাসপোর্টের পরিচয়ে বাংলাদেশি? নাকি এমন একটি প্রজন্ম চাই, যারা বাংলাদেশের ইতিহাস জানে, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসে, দেশের সম্ভাবনা বোঝে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে চায়?
প্রবাসীর সন্তানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়তো সবসময় সম্ভব হবে না। কিন্তু বাংলাদেশকে তার হৃদয়ে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
সে হয়তো ইউরোপে জন্মাবে। অন্য দেশের ভাষায় পড়াশোনা করবে। অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেবে। তার জীবনযাপন হবে বহুসাংস্কৃতিক।
তবু সে যেন বলতে পারে-‘আমি কোথা থেকে এসেছি, তা আমি জানি।’
কারণ শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক মানে অতীতে আটকে থাকা নয়। শিকড় মানুষকে নিজের পরিচয় বুঝতে সাহায্য করে, আর পরিচয় জানা মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
তাই আজকের প্রশ্ন শুধু-
প্রবাসীর সন্তানরা কি বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
প্রশ্নটি আরও গভীর হওয়া দরকার-
আমরা কি তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য যথেষ্ট করছি?
উত্তরটি যদি না হয়, তাহলে এখনই সময় নতুন করে ভাবার।
কারণ আজ যে শিশুটি প্রবাসে বড় হচ্ছে, আগামীকাল সে-ই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেতুগুলোর একটি।
তাকে হারানোর আগে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটি আরও গভীর করে তোলা আমাদের দায়িত্ব।
লেখক: প্রেসিডেন্ট, পর্তুগাল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (PBCCI); সম্পাদক, ইউরোবাংলা