Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা প্রয়োজন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে যখন কোনো অন্যায়, অবিচার, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো আইন বা বিধান দেখা যাবে, তখন সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে। সাহসের সঙ্গে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। সরকার যাতে সঠিক পথে থাকে, সে জন্য সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা এই দেশ পেয়েছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় একটি সুন্দর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধান তৈরি ও সংস্কার করতে হবে। আমরা আইনের শাসনের পক্ষে, মানবিক শাসনের পক্ষে। আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দুঃসাহসিক ভূমিকা প্রয়োজন। 

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারকে সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরও রয়েছে। সরকারের হাতে যে ক্ষমতা থাকে, তা যেন যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ না হয়, সে জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রয়োজন। সাংবাদিক সমাজ, বিচার বিভাগ এবং রাজনৈতিক সমাজ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকার ও বিরোধী দল একটি রাষ্ট্রের দুটি চোখ, দুটি হাতের মতো। পরস্পরের সহযোগিতা, সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ না থাকলে একটি জাতি আবারও সংকট ও সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় পারস্পরিক দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা জরুরি।

রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সাম্প্রতিক ইতিহাসে রুহুল আমিন গাজী নিঃসন্দেহে একজন কৃতিত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্ব পালন করার সময় রুহুল আমিন গাজীর প্রধান অগ্রাধিকার ছিল সাংবাদিক ও সহকর্মীদের কষ্ট-বেদনা লাঘব করা এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করা। অনেকেই যখন কথা বলতে পারেননি, তখন তিনি দৃঢ় ও বলিষ্ঠভাবে কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার ও সত্যের পক্ষে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, সত্য কথা বলা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে হাতে গোনা যে কয়েকজন সাংবাদিক দুঃসাহসিক ভূমিকা রেখেছেন, রুহুল আমিন গাজী তাদের অন্যতম। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, দৈনিক সংগ্রামের আবুল আসাদসহ অনেক সাংবাদিক বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার ক্ষেত্রে তারা আপস করেননি।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের এ ধরনের ভূমিকা জাতিকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রুহুল আমিন গাজীও কারাবরণ করেছেন, গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একই সময়ে রুহুল আমিন গাজীর কিছু সহকর্মী সাংবাদিক ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। একটি অংশের সাংবাদিক ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থাকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি সঠিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতেন, তাহলে বাংলাদেশ এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতো না। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে। এর পেছনে ফ্যাসিবাদকে সহযোগিতা করা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা ছিল, যার মধ্যে সাংবাদিকদের একটি অংশও রয়েছে।

রুহুল আমিন গাজীর অসুস্থতা ও কারাবরণের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও রুহুল আমিন গাজী দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। এরপরও তিনি সংগ্রামের পথ থেকে সরে যাননি। রুহুল আমিন গাজীকে একজন অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তার জীবন থেকে সাংবাদিকদের শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সত্যের পক্ষে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই সিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছির প্রমুখ।

এএইচ/এমআই