জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের আগে যারা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এখন তারাই এসব কার্ড পেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। তার মতে, এটি সরকারের পরিকল্পনার প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন প্রণোদনা নিয়ে জনগণের কাছে গেছিলাম, আমাদের বলা হয়েছিল আমরা নাকি ভুয়া কার্ডের স্বপ্ন দেখাচ্ছি। কিন্তু এখন দেখা যায় অপজিশন মেম্বারসহ অনেকেই এই কার্ডগুলোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। এতে প্রতীয়মান হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্ল্যানের কথা বলেছিলেন, এই প্ল্যানটা মুখে না হলেও তারা বুকে ধারন করে।’
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হলে তা শুধু পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতেই ভূমিকা রাখবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়বে। এই অর্থ গ্রামের মুদি দোকান, ওষুধের দোকানসহ স্থানীয় বাজারে ব্যয় হবে, ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। ৪০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় এলে বাংলাদেশ আরও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এটি শুধু সময়োপযোগী বা মানবিক বাজেট নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন।
তার মতে, গত ১৭ বছরে অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেটের আকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবাই উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেটের সমালোচনা করেন। উন্নয়ন করতে হলে বাজেটের পরিধিও বড় হতে হবে। বাসায় ডাল-ভাতের বাজেট করে বিরিয়ানি খাওয়ার আশা করা যায় না।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সবাই বেহেশতে যেতে চায়, কিন্তু কেউ মরতে চায় না। একইভাবে সবাই নিজের এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বড় বাজেট মেনে নিতে চান না।
বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অপজিশন মেম্বারস তারা বারবার বলেন, অমুক হাসপাতাল করে দেন, অমুক রাস্তা করে দেন। তার মানে তাদের আসলে আস্থা আছে আমাদের সরকারের প্রতি, আস্থা আছে আমাদের অর্থমন্ত্রীর প্রতি, যার জন্য তারা বারবার বলেন এগুলো করে দেন। কারণ তারা জানেন আমরা উন্নয়নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।’
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে ইয়াসের খান দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবারও মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।
নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকায়। পরে তা বেসরকারি খাতে বিক্রি করে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনামূল্যেই দেশের দর্শকরা বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে সক্ষম হয়েছে এবং তরুণ-শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।
টিএই/ক.ম