ঢাকা মেইল ডেস্ক
২১ মে ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর করা মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দুদিন ধরে সরগরম। তরুণ এই রাজনীতিককে ‘পাগল’ এবং ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিচ্ছেন সরকারি দলের সমর্থকরা। পাটওয়ারীকে নিয়ে এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা কতটা মসৃণ হবে, এমন প্রশ্নও তুলছেন তারা।
কিন্তু ত্রাণমন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা দুলুকে নিয়ে কী বলেছিলেন জুলাই বিপ্লবী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী?
মঙ্গলবার (১৯ মে) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খদেমুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান এনসিপির এই নেতা। সাক্ষাৎ শেষে তিনি কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
এসময় ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে ‘মাফিয়া’ আখ্যা দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘লালমনিরহাটে একজন মন্ত্রী (দুলু) রয়েছেন, তিনি মাফিয়া। বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদিমুলের পরিবারকে তিনি এখনো দেখতে আসেননি।’
তবে শুধু ত্রাণমন্ত্রী নয়, এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়েও কথা বলেন পাটওয়ারী।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া সারাজীবন ভারতের গোলামির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তারেক রহমান ভারতের গোলামি করছেন।’
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে দায়িত্ব আমাদের ছেড়ে দিক। আমরা সরকারে গেলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।’
তবে এই প্রথম নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে কখনো বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস, কখনো ইশরাক হোসেন, আবার কখনো যুবদল নেতা নয়নকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সমালোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সন্ত্রাসীর গুলিতে শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের বিপক্ষে এনসিপির প্রার্থীও হয়েছিলেন এই তরুণ তুর্কী। কিন্তু হেরে যান।
সে সময় ভোটের প্রচারেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নানা বিধ্বংসী মন্তব্য করে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকেন পাটওয়ারী। সমালোচকরা বলেন, আলোচনায় থাকতেই প্রতিনিয়ত এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।
এএইচ