images

রাজনীতি

শুধু মত প্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশেরও স্বাধীনতা চাই: সংসদে হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

জাতীয় সংসদে বিরোধী মত দমন, মামলা-হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা এই পার্লামেন্টে শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার ও মকারি (ব্যঙ্গ)কে প্রমোট করেন, সেখানে এই সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মতপ্রকাশের কারণে মানুষকে বাসা থেকে তুলে আনা হয়েছে। আমরা খুবই আশাহত হই-এত রক্ত, লড়াই ও ত্যাগের পর এই সংসদ গঠিত হলেও আবারও দোষারোপ, ট্যাগিং ও বিরোধী মত দমনের সেই পুরোনো চক্রে আমরা ফিরে গেছি।

তিনি বলেন, আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, আওয়ামী লীগের সময়ও ছিল। তবে সেটা ছিল সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই পার্লামেন্টে শুধু মতপ্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুক ব্যবহার করতে চাই, ব্যাকপেজ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবারও একটি ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা দেখছি, একটি সিলেক্টিভ বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজের যে রাজনৈতিকভাবে এলিট শ্রেণীর নারীরা রয়েছেন, তাদের নিয়ে সমালোচনা করা হলে সেটিকে নারীবিরোধী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু গার্মেন্টস কর্মী বা গ্রামাঞ্চলের পরিশ্রমী নারীদের নিয়ে যখন কটূক্তি করা হয়, তখন সেটিকে নারীবিরোধিতা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই ধরনের সিলেক্টিভ নারী-বিরোধী প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

হাসনাত বলেন, আজকে ক্যাম্পাসগুলোতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সময়ে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি ছিল। শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেত। আমরা দেখেছি, ক্ষমতাসীন দল কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতার কাঠামো দীর্ঘমেয়াদি করার চেষ্টা করত। এখন আবার সেই গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা হচ্ছে এবং বাধ্যতামূলক রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন, আর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে তাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলেন। আমরা এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নেতা তৈরির কারখানা হবে না; এখানে গবেষণা, পাঠচর্চা ও মানসিক বিকাশের পরিবেশ থাকতে হবে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষক ও বুদ্ধিজীবী তৈরি হোক, যারা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে নেতা উৎপাদনের বিশেষ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, আরও শক্তিশালীভাবে তা পুনর্গঠন করা হবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্সও বাতিল করা হয়েছে, পুনর্বিবেচনার কথা বলা হচ্ছে। যদি সদিচ্ছা থাকত, তাহলে অর্ডিন্যান্সটি গ্রহণ করে পরবর্তীতে সংশোধন করা যেত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের আশা, স্বপ্ন ও চাহিদাকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আবার যদি আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে যাই, তাহলে বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াতে ইসলাম-কেউই লাভবান হবে না; বরং যারা অতীতে পরাজিত হয়েছে, তারাই লাভবান হবে।

আরও পড়ুন: এবার হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বললেন রুমিন ফারহানা

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্মূল, বিনাশ, দমন ও পীড়নের রাজনীতি যদি আমরা আবার দেশে ফিরিয়ে আনি, তাহলে কেউই উপকৃত হবে না। বরং যারা দেশকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে, সেই অপশক্তিই লাভবান হবে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এমএইচএইচ/এমআই