নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সরাসরি ভোটে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দলটি চলতি সংসদে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। এবারের নির্বাচনে যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির টিকিট পেতে হয়েছে, এর চেয়েও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনে। ৩৬টি আসনের বিপরীতে বিএনপির ১৩০০ নারী নেত্রী ফরম কিনেছিলেন। তবে ফরম জমা দিয়েছেন ৯০০ জন। সে হিসেবে প্রতি পদের বিপরীতে প্রার্থী ২৫ জন।
গত ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল মোট তিন দিন বিএনপি দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। ফরমের মূল্য ধরা হয় দুই হাজার টাকা। প্রত্যেক প্রার্থী ফরম জমার সময় আরও ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দেন। তিন দিনে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০টি ফরম জমা পড়ে।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দুই দিন সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন সভাপতি তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানান, একটি বিভাগের প্রার্থীদের একসঙ্গে ডেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল। এছাড়া সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হলে তিনি কীভাবে দলের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন সেটাও জানতে চাওয়া হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনে এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থী হতে আগে কখনো দেখা যায়নি। ফলে এবার প্রার্থী বাছাই করতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। ৯০০ জন থেকে ৩৬ জনকে বাছাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন ৩৬ জনের কপাল খুলছে সেটা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে দলের ভেতরে ও বাইরে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলন, জেল-জুলুম ও ত্যাগের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। দেশ ও জনগণের পক্ষে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন-এমন নেতৃত্বকেই অগ্রাধিকার দিতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে যারা দুর্দিনে দলের পতাকা আঁকড়ে ধরে ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে কারা মনোনয়ন পেতে পারেন সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় রাখা হবে। অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি তুলনামূলক তরুণ, শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের একটি বড় অংশ সুযোগ পেতে পারেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীদের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন পেশায় পরিচিত মুখ থেকেও কয়েকজনকে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত আসনে কারা মনোনয়ন পেতে পারেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আমি মনে করি, বিগত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদের কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার যোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনা করা হবে।
জেবি