নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
নিজের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রহমান।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াত আমির মনে করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টাকে পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।
যদিও সাবেক একাধিক পররাষ্ট্র সচিবসহ পেশাদার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশে এমন পদায়ন কখনো হয়নি। এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এমন পদায়ন হয়েছে বলে শোনা যায় না।
তারা আরও বলছেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে বড় সংকট কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সব দল একসঙ্গে কাজ করার নজির রয়েছে।
সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা এবং সমন্বয়ের ব্যাপার থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের আগ্রহ—এই তিন বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিঠির বিষয়ে মাহমুদুল হাসান জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে অবহিত করেছিলেন। আমির সেখানে মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রির পদমর্যাদা অংশটুকুতে জামায়াত আমিরের সম্মতি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শফিকুর রহমান এ বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে।
চিঠিতে যা লিখেছিলেন জামায়াত আমির
চিঠিতে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মূলধারার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অধ্যাপক হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার মতে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য করা যাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াত আমির আরও লিখেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।’
এএইচ