বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজে সৎ ও ভালো মানুষ অনেক থাকলেও কয়েকজন খারাপ রাজনীতিবিদের কারণে দেশের অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রোববার মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে দুর্নীতির পাতাগুলো নয়, মূলটাই তুলে ফেলবো। বাংলাদেশের মানুষ খারাপ নয়—এটি গত বছরের ৫ আগস্টের পর প্রমাণ হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুপস্থিত থাকার পরও কোথাও লুটপাট হয়নি। এতে বোঝা যায়, মানুষের ভিতর সততা আছে; সমস্যাটি রাজনীতিবিদদের মধ্যেই।’
বিজ্ঞাপন
কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারদের অপ্রতুল বেতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে শহরে সাধারণ একটি বাসাও ভাড়া করা সম্ভব নয়। জনসেবা দেওয়ার জন্য যারা নিরলস পরিশ্রম করেন, তাদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যদি পুলিশের বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে তারা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সমাজের প্রতি আস্থা তৈরি হলে মানুষই নিজের জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত হয়।’
শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো মানসম্মত শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নির্দেশনা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী বিষয় নির্ধারণে শিক্ষকদের ভূমিকা থাকা উচিত ছিল; কিন্তু কোচিং ও টিউশননির্ভর ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীই পিছিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, শ্রমিক বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তানসহ সব শিশুর শিক্ষার অধিকার সমান—অবহেলায় বড় হতে দেওয়া হলে তারা সমাজের ওপর বোঝায় পরিণত হয়, অথচ তাদেরই জনসম্পদে পরিণত হওয়ার কথা।
উপজাতি, পেশা বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই ভাষায় কথা বলা, একই ক্লাসে পড়ার পরও সমাজে কেন বিভক্তি তৈরি হয়—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিভাজন বাড়লে ঘর্ষণ বাড়ে; আর ঐক্য থাকলে সহযোগিতা বাড়ে। জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশের অগ্রগতিও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, ‘বেসিক লেভেল শক্তিশালী হলে ওপরের স্তরের ৯০ শতাংশ চাপ কমে যায়। সরকারে যাই বা না যাই, আগামী এক বছরের মধ্যে এসব ক্লিনিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল দেওয়া হবে। এটি সামাজিক কল্যাণে আমাদের প্রতীকী উপহার।’
বিজ্ঞাপন
রাজনীতিকে জনগণের সেবা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু নদীতে ভেসে থাকা মাঝি হতে চাই না; গন্তব্যে গিয়ে মানুষের কাজে লাগতে চাই, জনগণের অংশ হতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ এলে জনগণের অধিকার আদায়ে আর কাউকে ধর্ণা, মিছিল বা সমাবেশ করতে হবে না। সরকারের দায়িত্বই হলো মানুষের অধিকার তাদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া।
টিএই/এআর

