images

রাজনীতি

নিজ নিজ আসনে এগিয়ে তারেক রহমান ও ডা. শফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

আসন্ন নির্বাচনে দল এবং প্রার্থী হিসেবে কারা এগিয়ে- এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, প্রকাশ পাচ্ছে নানা জরিপ। তেমনই এক জরিপে ঢাকার নিজ নিজ আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-১৭ আসনে। এখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।

‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’-এর জরিপের ফলাফল বলছে, ঢাকা-১৭ আসনে ৩৫ শতাংশ ভোটার তারেক রহমানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৩২ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন ডা. খালিদুজ্জামান। 

তবে এখনো প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন থাকায় শেষ মুহূর্তে আসনটির ফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা-১৭ আসনে ৫১৫ জন ভোটারের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপ অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার অন্যান্য প্রার্থীদের এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার কথা বলেছেন। 

অন্যদিকে ১০ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এবং ১৫ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের কথা প্রকাশ করতে রাজি হননি। অর্থাৎ প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

socchar_
বিডিবিএল ভবনে সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

যদিও কে জিততে পারেন?’–এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারেক রহমানই জয়ী হবেন। অন্যদিকে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন ডা. খালিদুজ্জামান জিতবেন।

এদিকে জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে। এখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ভোটারদের ধারণা, লড়াই হবে এই দুজনের মধ্যেই।

‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’-এর জরিপ বলছে, ঢাকা-১৫ আসনে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হতে পারেন ডা. শফিকুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রাথী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেতে পারেন ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

রাজধানীর মিরপুর (ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪, ১৩, ১৪), ক্যান্টনমেন্ট (ডিএনসিসি ওয়ার্ড ১৬) এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৫ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ এবং নারী ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আসনটির ৫১৪ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ (২৫৩ জন) ভোটার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. শফিকুর রহমানকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। আর ৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নিলেও তা প্রকাশ করতে চাননি। বাকি ভোটাররা অন্যান্য প্রাথীদের ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে দলভিত্তিক নানা সংস্থার জরিপ প্রকাশ পেয়েছে। যার সবকটিতেই এগিয়ে রাখা হয়েছে বিএনপিকে। দেশের অধিকাংশ মানুষেরও ধারণা, সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বৃহত্তর এই দলটিই। 

যদিও বেশিরভাগ ভোটারের সমর্থন তাদের প্রতি রয়েছে বলে ধারণা জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের। তবে কারা সরকারি দল আর কারা বিরোধী দল হবে- তা তো ১২ ফেব্রুয়ারি পরদিনই নির্ধারণ হবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা।

এএইচ