images

রাজনীতি

জামায়াতের হাতে তিন ‘ট্রাম্প কার্ড’

মুহা. তারিক আবেদীন ইমন

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

  • নারী কর্মীদের মাঠে সরব উপস্থিতি
  • নারীবান্ধব বড় ইশতেহার ঘোষণা
  • ছাত্রসংসদে শিবিরের জয় তরুণ ভোটারের মাপকাঠি
  • ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্য
  • প্রবাসী পরিবারের ভোটে পাল্লা ভারী হওয়ার আশা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা চলছে। শহর নগর বন্দরে চলছে ভোটের আমেজ। শেষ মুহূর্তে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ কষছেন ভোটাররা। নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভোটাররাও। এই নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে নারী ও তরুণদের ভোট। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে তরুণদের ভোটের বড় অংশ জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় পড়তে পারে। আর বর্তমানে নির্বাচনি মাঠে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিচরণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের দাবি প্রথমে জামায়াতের পক্ষে তোলায় অধিকাংশ ভোট জামায়াতের পক্ষেই আসার সম্ভাবনা দেখছে দলটি। ফলে এই তিন শ্রেণির ভোট জামায়াতের দিকে আসলে নির্বাচনি খেলা ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তরুণ। তথ্য বলছে, দেশে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী মোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ জন, যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়া নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। যা এবারের ভোটের ফল নির্ধারণে এসব তরুণ এবং নারী ভোটার অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিলেন ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে বর্তমান ইসি। গত ১৭ বছরে ভোটার বেড়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮-২১ বছরের ভোটার ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন, ২২-২৫ বছরের ভোটার ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬, ২৬-২৯ বছরের ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২, ৩০-৩৩ বছরের ভোটার ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার ৬১৫, ৩৪-৩৭ বছরের ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫, ৩৮-৪১ বছরের ভোটার ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০, ৪২-৪৫ বছরের ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২, ৪৬-৪৯ বছরের ভোটার ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩, ৫০-৫৩ বছরের ভোটার ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০, ৫৪-৫৭ বছরের ভোটার ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮, ৫৮-৬০ বছরের ভোটার ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪ জন।

বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি অধিকাংশ তরুণ ভোটার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বর্জন করে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন ১৫৩ জন এবং ভোট পড়ে মাত্র ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নিলেও ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৩টিতেই এমন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিরোধী দলগুলো দাবি করে, নির্বাচন শুরু হওয়ার আগের রাতেই ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট পড়ে ৪১ দশমিক ৮০ শতাংশ। বিরোধী দলগুলো বর্জন করায় আওয়ামী লীগ নিজেদের ‘ডামি প্রার্থী’ দাঁড় করিয়ে প্রতিযোগিতার আবহ তৈরির চেষ্টা করে। এসব নির্বাচনে অনেক তরুণ ভোটার ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।

ভোট দিতে তরুণদের আগ্রহের বিষয়টি বিভিন্ন জরিপেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) ‘ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫’-এ দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৫৪৫ জন উত্তরদাতার ৯৭ শতাংশই ভোট দিতে চান। পরবর্তী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে ৬৭ শতাংশ দুর্নীতি নির্মূল, ৫৬ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ, ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা এবং ১৪ শতাংশ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী। ৪ হাজার ৯৮৫ জনের মধ্যে পরিচালিত জরিপে ৬৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন অতীতের নির্বাচনগুলোয় কারচুপি হয়েছে, তবু ৮০ শতাংশ আশাবাদী যে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

ভোটে সরাসরি নারী প্রার্থী না দিলেও নারী কর্মীদের খুব জোরালোভাবেই মাঠে নামিয়েছে নারী কর্মীদের। বিগত ১৬ বছরে প্রকাশে কাজ করতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করেছে মাহিলা জামায়াত। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নারীদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় নারীদের ওপর হামলার খবর শোনা যাচ্ছে। আবার প্রথমবারের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু বিরল দৃশ্য দেখা গেছে। নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে মহিলা জামায়াতকে। মিছিলগুলোতে উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। আবার বিভিন্ন জেলা সমাবেশগুলোতেও নারী কর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে। সবমিলিয়ে অন্যান্য দলগুলোর থেকে জামায়াতের নারীদের সক্রিয়তা বেশি দেখা গেছে।

নির্বাচনে নারী ভোটারদের বড় অংশকে নিজেদের পক্ষে আনার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীকেও নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। ভোটের প্রচার কার্যক্রমে দলটি এবার নারী কর্মীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির উদ্যোগে বিভিন্ন আসনে নারীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো সমাবেশ করতেও দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই উদ্যোগ তাদের প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও এতদিন জামায়াতে ইসলামীর নারী ভোট মূলত পরিবার কিংবা স্বামীর মাধ্যমে এসেছে। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নারী কর্মীদের সরাসরি মাঠে নামানো হচ্ছে।

4

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার অনেক সংগঠক এ প্রচারাভিযানে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। দলের নীতিনির্ধারকদের কারও কারও ধারণা, প্রচার কাজে নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণের মধ্যে দলটির নারীবিরোধী ইমেজ ভাঙা সম্ভব হবে, যা ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ বিষয়ে জামায়াত নেত্রী ফেরদৌস আরা খানম বকুল বলেন, আমরা বিগত ১৬ বছর প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারিনি। রাজনীতির প্রকাশ্য ময়দানে জামায়াত কাজ করতে পারেনি। ইনশা আল্লাহ সামনের দিনগুলোতে জামায়াত ক্ষমতায় আসবে এবং মহিলারাও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) প্রচারেও নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এনসিপি ঘোষিত ৩৬ দফা ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে, যার সংখ্যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমানো হবে। এ ছাড়া ১৫ নম্বর দফায় বলা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসএমই খাতে ক্যাশফ্লোভিত্তিক ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, নিবন্ধন খরচ হ্রাস ও প্রথম পাঁচ বছরের করমুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের অনুমান, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণ ভোটাররা হয়ে উঠতে পারেন নির্ণায়ক শক্তি। যোগ্য প্রতিনিধি বাছাইয়ের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত তারা। নিজেদের প্রথম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, এমন প্রত্যাশা তরুণদের। বয়স্কদের পাশাপাশি এবার সমানতালে সক্রিয় তারাও, ঘরে, ক্যাম্পাসে, এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। অন্যদিকে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নারীরাও তাদের ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অবস্থানের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারীর প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘিরেও নারীদের ভোট পাওয়ার জন্য চলছে বিশেষ প্রচারাভিযান। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররা আগের যে কোনোবারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

6

বিভিন্ন জরিপে তরুণদের অভিমত জামায়াতের পক্ষে বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হওয়ায় তরুণ ভোটারদের পাল্লা আরও ভারি হয়েছে বলে মনে করছে জামায়াত জোট। এছাড়াও সম্প্রতি ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ ছাত্রসংদ নির্বাচনগুলো ভোট দিয়েছেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। প্রায় সব ছাত্রসংসদেই জামায়াতের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা ভূমিধস জয় অর্জন করেছেন। যার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও জোরালোভাবে পড়বে বলে মনে করছে জামায়াত। যেটাকে তারুণ্যের জোয়ার হিসেবে দেখছেন নেতারা। বিগত ১৬ বছর শিবির ওপেন কাজ করতে পারেনি। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু ছাত্রসংগঠনটি বেশ কিছু ইউনিক কার্যক্রম করেছে যা তরুণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেছে।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রবাসীদের ভোটে অন্তর্ভুক্ত করতে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল জামায়াত। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাত লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন চার লাখ ৮২ হাজার ৮১৭ জন। জামায়াতের ধারণা প্রবাসীদের বেশিরভাগ ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিকেই আসবে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের মাঝে কাজ করছে। সম্প্রতি নির্বাচনি ইশতেহারেও জামায়াত প্রবাসীদের জন্য বেশকিছু প্রতিশ্রুতি রেখেছে। তবে প্রবাসীদের ভোটের পরিমাণটা কম হলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোট একই দিকে ছুটতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যা ভোটের মাঠে বেশ প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে বড়সড় ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপের অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পিক আওয়ারে আলাদা বাস সার্ভিস, গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা, দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট, জরুরি কল নম্বর ও ইমার্জেন্সি পোল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

3

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খামার ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, আলাদা টয়লেট ও নামাজের ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সুবিধা সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। ইশতেহারে হিজড়া জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও চাকরিতে কোটা, ভিকটিম নারীদের জন্য জেলা পর্যায়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন, বিধবা ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পুঁজি সহায়তা এবং নারী চিকিৎসক নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, শিশু খাদ্যে ভ্যাট অব্যাহতি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট এবং নারী উন্নয়ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণ সমাজকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ১৫ লাখ সফল ফ্রিল্যান্সার এবং পাঁচ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব ও ইউথ টেক ল্যাব স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যুবনীতি প্রণয়ন করা হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণ-তরুণীকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রিন টেকনোলজি ও উদ্যোক্তা দক্ষতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইশতেহারে প্রত্যেক উপজেলায় ‘ইউথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের মাধ্যমে অনলাইন, অফলাইন ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘প্রথমেই চাকরি নয়, প্রথমেই উদ্যোক্তা’—এই নীতির আলোকে ই-ওয়ার্কহাব স্থাপন করে ঘরে বসেই বৈশ্বিক আয়ের সুযোগ তৈরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে সরকারি উদ্যোগে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ তরুণের চাকরির সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষিত বেকারদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কর্জে হাসানা হিসেবে মাসিক ১০ হাজার টাকা ‘দক্ষতা বহুমুখীকরণ ফি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে বয়স বাধা হবে না—যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড—এ নীতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

টিএই/এএস