Dhaka Mail Logo

মতামত

রোগীর নিরাপত্তায় মুদ্রিত প্রেসক্রিপশন জরুরি

ঢাকা মেইল ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন রোগীর সঠিক চিকিৎসার জন্য একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাপত্র। কোন ওষুধ কত মাত্রায়, কীভাবে, কতবার এবং কত দিন সেবন করতে হবে—তার নির্দেশনা থাকে এই প্রেসক্রিপশনে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের হাতের লেখা এতটাই দুর্বোধ্য হয়ে থাকে যে, রোগী, স্বজন, এমনকি ওষুধ বিক্রেতার পক্ষেও তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। একটি অস্পষ্ট অক্ষর, একটি ভুল সংখ্যা কিংবা ওষুধের নামের সামান্য বিভ্রান্তি রোগীর জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। অথচ সহজলভ্য, পরীক্ষিত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত কম্পিউটারের সাহায্যে প্রেসক্রিপশন লিখে দিলে তা রোগী, রোগীর স্বজন, ঔষধ বিক্রেতা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই অনেক সুবিধাজনক হয়।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন কম্পিউটারে টাইপ করে মুদ্রিত করা এখন আর নিছক আধুনিকতার বিষয় নয়; বরং এটি রোগীর নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।চিকিৎসকের হাতে লেখা প্রেসক্রিপশনকে একেবারে নিষিদ্ধ করা এখনই হয়তো বাস্তবসম্মত হবেনা তবে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় মুদ্রিত প্রেসক্রিপশনকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা এবং হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্রকে সীমিত করে ফেলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের স্বল্পতা, রোগীর মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যা বৃদ্ধি, সীমিত সময়, কর্মীসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীর হাতে এমন নির্দেশনা তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা তিনি, ঔষধ সরবরাহকারী এবং রোগীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সঠিক ভাবে বুঝতেই পারবেন না। চিকিৎসকের কাজ শুধু ওষুধ নির্ধারণ করা নয়; সেই নির্দেশনা যেন ভুল ছাড়াই রোগীর কাছে পৌঁছায়, সেটিও চিকিৎসার নিরাপত্তার অংশ।

দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশন: ভুলের ঝুঁকি ও দায়িত্বের প্রশ্ন

প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম অস্পষ্ট হলে কাছাকাছি নামের অন্য ওষুধ সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হয়। মাত্রা লেখার ক্ষেত্রে ৫ মিলিগ্রামকে ৫০ মিলিগ্রাম মনে করা, দিনে একবারের পরিবর্তে একাধিকবার সেবনের নির্দেশ বুঝে নেওয়া, কিংবা খাবারের আগে না পরে ওষুধ খেতে হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি—এসব ভুলের পরিণতি রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে, রক্তক্ষরণ, বিষক্রিয়া কিংবা অন্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার চিকিৎসার কার্যকারিতা নষ্ট করার পাশাপাশি জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বাড়ায়। সব ভুলের পরিণতি যে প্রাণঘাতী হবে, তা নয়; কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য ভুলের ঝুঁকি কমানোর দায়িত্ব এড়ানোরও সুযোগ নেই।

তবে চিকিৎসায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেই তাকে অবহেলা বা চিকিৎসকের ভুল বলে ধরে নেওয়া ন্যায়সংগত নয়। ভুলের উৎস হতে পারে প্রেসক্রিপশন লেখা, ওষুধ সরবরাহ, রোগীর ওষুধ সেবন কিংবা প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবস্থাপনা। চিকিৎসককে সঠিক ও স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে; ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ সরবরাহকারীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রোগী ও স্বজনদেরও নির্দেশনা বুঝে নেওয়া এবং সন্দেহ হলে প্রশ্ন করার দায়িত্ব রয়েছে। কোনো ক্ষতির ঘটনায় দায় নির্ধারণ করতে হলে ঘটনার প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, প্রমাণ এবং ক্ষতির সঙ্গে ভুলের কার্যকারণ সম্পর্ক যাচাই করতে হবে। অনিচ্ছাকৃত ভুল, চিকিৎসার অনিবার্য জটিলতা ও পেশাগত অবহেলাকে এক করে দেখা যাবে না। একই সঙ্গে ন্যায্য তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে একই ভুল ঠেকানোর ব্যবস্থা—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপদ চিকিৎসায় রোগী ও স্বজনদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসক্রিপশনে কোনো ওষুধের নাম, মাত্রা বা সেবনবিধি অস্পষ্ট মনে হলে অনুমান করে ওষুধ কেনা বা সেবন করা উচিত নয়; চিকিৎসকের কাছ থেকে বিষয়টি বুঝে নিতে হবে। ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেওয়ার সময় প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ওষুধের নাম, শক্তি বা মাত্রা এবং পরিমাণ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসককে পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস, ওষুধে অ্যালার্জি, বর্তমানে সেবন করা অন্যান্য ওষুধ এবং বিশেষ শারীরিক সমস্যার কথা জানাতে হবে। নিজের ইচ্ছায় ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন, অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ কিংবা পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কোনো ওষুধ সেবনের পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কম্পিউটারভিত্তিক প্রেসক্রিপশন: নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের পথ

এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। শুধু নির্দেশনা জারি করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; কোন প্রতিষ্ঠান কখন থেকে এই ব্যবস্থা চালু করবে, কী ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণযোগ্য হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ কে নিশ্চিত করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে যাচাই করা হবে—এসব বিষয় নীতিমালায় স্পষ্ট থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে বিনিয়োগ

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক যুদ্ধ: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রথম ধাপে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং বড় বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কম্পিউটারে টাইপ করা প্রেসক্রিপশন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। পরবর্তী ধাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ব্যক্তিগত চেম্বারকে পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। বাস্তবসম্মতভাবে ৬ মাসের মধ্যে বড় হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষামূলক ও প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু এবং ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে। তবে সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় নির্দেশনাটি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

একটি জাতীয় মানসম্মত প্রেসক্রিপশন ফরম্যাট প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সেখানে রোগীর পরিচয় ও বয়স, তারিখ, চিকিৎসকের নাম ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত পরিচিতি, রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার প্রাসঙ্গিক তথ্য, ওষুধের জেনেরিক নাম, ব্র্যান্ডের নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), শক্তি বা মাত্রা, সেবনের পথ, দৈনিক ব্যবহারের সংখ্যা, খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং চিকিৎসার মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ বন্ধ করার নির্দেশ, পুনরায় দেখানোর সময় এবং জরুরি সতর্কতাও যুক্ত করতে হবে। অস্পষ্ট বা বিভ্রান্তিকর সংক্ষিপ্ত রূপ পরিহার এবং প্রতিটি প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের চূড়ান্ত যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত। শুধু সুন্দরভাবে ছাপা হলেই প্রেসক্রিপশন নিরাপদ হয় না; তথ্যের পূর্ণতা ও নির্ভুলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ প্রেসক্রিপশনের লেখা দুর্বোধ্য। ছবি: সংগৃহীত
বেশির ভাগ প্রেসক্রিপশনের লেখা দুর্বোধ্য। ছবি: সংগৃহীত

এই পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, প্রিন্টার, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত চেম্বারের জন্যও বাস্তবসম্মত ন্যূনতম অবকাঠামোগত মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে ইন্টারনেট বা বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্ধারিত বিকল্প পদ্ধতি চালু থাকতে হবে; জরুরি প্রয়োজনে হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হলে তা স্পষ্ট অক্ষরে, পূর্ণ নির্দেশনাসহ লিখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তির অভাবে রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, আবার সেই সীমাবদ্ধতাও যেন অনিরাপদ নির্দেশনার অজুহাত না হয়।

প্রেসক্রিপশন ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য দেখা, একই ওষুধের পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করা এবং ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি যাচাই করা সহজ হবে। তবে এ জন্য রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, অনুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার এবং তথ্য সংরক্ষণের নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্যও অভিন্ন প্রযুক্তিগত মান প্রয়োজন। প্রযুক্তি যেন রোগীর সুরক্ষা বাড়ায়, ব্যক্তিগত তথ্যের নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে।

আরও পড়ুন

রাজউকের প্লট বরাদ্দে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হোক

ইসলামী ব্যাংকের বিপর্যয়: দায় কার, আস্থা ফিরবে কীভাবে

নীতিমালার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কত শতাংশ প্রেসক্রিপশন কম্পিউটারে মুদ্রিত হচ্ছে, কতগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুপস্থিত থাকছে, ওষুধ সরবরাহের সময় কতবার অস্পষ্টতা ধরা পড়ছে এবং ভুল ওষুধসংক্রান্ত ঘটনা বা অল্পের জন্য এড়ানো বিপদের সংখ্যা কত—এসব সূচকের ভিত্তিতে অগ্রগতি পরিমাপ করা যেতে পারে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ওষুধসংক্রান্ত ভুল ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার প্রতিবেদন, পর্যালোচনা এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া থাকা দরকার। এ ধরনের প্রতিবেদনকে শুধু শাস্তির হাতিয়ার না বানিয়ে ভুলের কারণ শনাক্ত ও প্রতিরোধের উপায় হিসেবেও ব্যবহার করতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা বা নিয়মিত নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও থাকতে হবে।

চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তি হোক রোগীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

কম্পিউটারে টাইপ ও মুদ্রিত প্রেসক্রিপশন চালু হলেই সব ধরনের চিকিৎসাগত ভুল বন্ধ হয়ে যাবে—এমন দাবিও বাস্তবসম্মত নয়। ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল মাত্রা নির্ধারণ, রোগীর অ্যালার্জির তথ্য উপেক্ষা কিংবা চিকিৎসকের যাচাই ছাড়াই সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই প্রযুক্তি চিকিৎসকের পেশাগত বিবেচনার বিকল্প নয়; বরং সেই বিবেচনাকে নির্ভুলভাবে রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সহায়ক ব্যবস্থা। প্রতিটি প্রেসক্রিপশন চূড়ান্ত করার আগে চিকিৎসককে তথ্য যাচাই করতে হবে, ফার্মাসিস্টকে সরবরাহের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং রোগীকে নির্দেশনা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান শুধু কতজন রোগী দেখা হলো, কতটি হাসপাতাল নির্মিত হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হলো—তা দিয়ে বিচার করা যায় না। রোগী চিকিৎসকের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে বুঝতে পারছেন কি না, নির্ধারিত ওষুধ সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না এবং প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকছেন কি না, সেটিও মানের মৌলিক মাপকাঠি। এ ক্ষেত্রে কম্পিউটারে টাইপ ও মুদ্রিত প্রেসক্রিপশন কোনো বিলাসী সুবিধা নয়; এটি রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তবসম্মত ও জরুরি পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আর বিলম্ব না করে সময়সীমাবদ্ধ, অর্থায়নসমর্থিত ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। কারণ চিকিৎসার প্রথম শর্ত শুধু সঠিক ওষুধ নির্ধারণ নয়—সেই ওষুধ সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা রোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়াও।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ; প্রাক্তন গভর্নিং বডি সদস্য, ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ রাজশাহী এবং পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতালসমূহ