মাহফুজুর রহমান
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের এক দিনের মাথায় আবারও আগের চেহারায় ফিরেছে এলাকাটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতজুড়ে আগের মতোই বসেছেন হকাররা। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি ফিরে এসেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গুলিস্তান এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ডিএসসিসি। অভিযানের সময় হকারদের সরিয়ে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা হয়। তবে এক দিন পার না হতেই আবারও ফুটপাতের জায়গা দখল করে বসেছেন হকাররা। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা ও দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত দুই দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তারা কেবল সেখানেই বসতে পারবেন। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা হবে এবং মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করার পাশাপাশি হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পরও হকাররা পুনরায় বসে পড়ায় এখন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নিয়ম অমান্য করে বসলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।
তবে প্রশাসকের এমন কঠোর বার্তার এক দিনের মাথায়ই গুলিস্তানের ফুটপাত আবারও হকারদের দখলে চলে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। এতে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা নয়, অভিযান-পরবর্তী সময়ে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকার অবৈধ দখল উচ্ছেদে উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে তা কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারছে না। ফলে উচ্ছেদ অভিযান ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগের পরিবর্তে আরও বেশি সংখ্যক হকারকে রাস্তায় নামার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের এই ব্যবস্থাপনার কারণে হকারদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাঁদাবাজিও বেড়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের অনেকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। সরকার বারবার হকার উচ্ছেদ করলেও বাস্তবে এই চক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
এম/এসআই