Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দুই বিমানবন্দরে চার অভিযান, ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে ঢাকা ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনে চারটি অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি ২৩ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য আটক ও জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। অভিযানে স্বর্ণবার, ৩০ লিটার মদ, ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, এক হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম এবং ২৩টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা পণ্যগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য তিন কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন অধিদফতরটি অবৈধ ও অননুমোদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।

গত ১৫ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে নজরদারিতে আনা হয়। যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের ঘোষণা দেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণবার বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে আটক স্বর্ণবারটির শুল্ক-করসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তৎপরতায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩০ লিটার মদ আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সকাল ১১টার দিকে মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষা করে ১৬ লিটার মদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও সাড়ে সাত লিটার এবং অপর দুই যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ছয় লিটার মদ আটক করা হয়। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা।

গত ১৬ অক্টোবর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ইউএল-১৮৯ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ সন্দেহজনক হওয়ায় স্ক্যান ও তল্লাশি করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এ সময় যাত্রী মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজ থেকে চার ধরনের মোট ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫টি, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪টি, জুভেডার্ম ভলিউমা উইথ লিডোকেইন ৪০টি এবং প্রোফাইলো ছয়টি। পণ্যগুলোর ঘোষিত বিবরণ অনুযায়ী, এগুলোর মোট পরিমাণ ১৬১ মিলিলিটার। আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ইনজেকশন সাধারণত মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, মুখের গঠন পরিবর্তন এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়া এগুলো প্রয়োগ করলে সংক্রমণ, রক্তনালিতে বাধা, ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

এ কারণে পণ্যগুলোর বৈধ আমদানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, গুণগত মান ও ব্যবহারের নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

একই দিন ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অভিযানে ৩৭ কার্টনে থাকা মোট এক হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত কোর আই-৫ ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা পণ্যগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে পারদ, অননুমোদিত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে তা ত্বক, কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জব্দ করা গৌরি ক্রিমে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

অন্যদিকে, আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ভোক্তাদের পণ্যের গুণগত মান, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। পাশাপাশি এসব পণ্য বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শুধু স্বর্ণ, মদ বা শুল্ক ফাঁকিসংশ্লিষ্ট পণ্য আটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রসাধনী, অননুমোদিত ইনজেকশন, নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এবং আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বৈধ ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও অন্যান্য শুল্ক স্টেশনে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এমআর/এসআই