Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ডার্কওয়েবে এনআইডির তথ্য ফাঁস ঠেকাতে ২ কোটি টাকার সফটওয়্যার

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

ডার্কওয়েবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ফাঁস ও কেনাবেচা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ সফটওয়্যার কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে দেশে অনেক তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ডার্কওয়েবে এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনাও রয়েছে। কয়েকটি ঘটনা তদন্ত করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনআইডির যেসব তথ্য পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই ডার্কওয়েব থেকে কেনা। ডার্কওয়েব থেকে বেশি দামে তথ্য কিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে ইসি। ইতিমধ্যে কয়েকটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বন্ধ করা হয়েছে। এখন ডার্কওয়েবে নজরদারি বাড়াতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সফটওয়্যার কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডার্কওয়েবে নজরদারির জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা ঢাকা মেইলকে বলেন, ডার্কওয়েবে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি চলমান। তথ্য ফাঁস ঠেকাতে শুধু সফটওয়্যারই ব্যবহার করা হচ্ছে না। আরও অনেক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

ইসির সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত বাৎসরিক ক্রয় পরিকল্পনা থেকে জানা যায়, আইসিটি সিস্টেম সাপোর্ট শাখায় ডেটা সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, আইসিটি সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে ২০ লাখ টাকা, অ্যান্টিভাইরাস, নেটওয়ার্ক ডিভাইস লাইসেন্সিং ও সহায়তায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ভিপিএন স্থাপন ও টিবিএল ব্যবহারে ২০ লাখ টাকা এবং নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এ খাতে মোট ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র–সংশ্লিষ্ট কাজে কম্পিউটার সফটওয়্যার ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় ২০ লাখ টাকা এবং ডার্ক ওয়েব মনিটরিং টুলস ও সফটওয়্যারে ২ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এনআইডি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৫ লাখ টাকা, ক্লাউড এআইয়ে ৩ লাখ টাকা, ইকেওয়াইসি সফটওয়্যারে ৫ লাখ টাকা, অফিস স্টেশনারিতে ১০ লাখ টাকা, নিরাপত্তা পরীক্ষা বা ভিএপিটিতে ৩০ লাখ টাকা, এনআইডি নিবন্ধনের ল্যাপটপে ৩ লাখ টাকা, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৪০ লাখ টাকা এবং অফিস সরঞ্জাম ও ফার্নিচারে ১৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে এনআইডি উইংয়ের ক্রয় পরিকল্পনা প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

ডার্ক ওয়েব মনিটরিং সফটওয়্যার এনআইডির তথ্য ফাঁস ঠেকাতে কার্যকর কি না জানতে চাইলে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ডার্ক ওয়েব মনিটরিংয়ের জন্য বিশ্বে অনেক সফটওয়্যার আছে, যেগুলো কার্যকর। তবে এসব সফটওয়্যার পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাদের ২৪ ঘণ্টা সফটওয়্যারের ওপর নজর রেখে তথ্য ফাঁস ঠেকাতে হবে। ইসির এমন দক্ষ জনবল আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। থাকলে ভালো। না থাকলে শুধু মনিটরিং সফটওয়্যার দিয়ে খুব বেশি কাজ হবে না।

সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) ব্রিচড অ্যান্ড আনআনসার্ড: বাংলাদেশ’স ডেটা ব্রিচ এপিডেমিক (২০২৩–২০২৬) শীর্ষক প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এসব ঘটনার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁসের ঘটনাও রয়েছে।

টিজিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৭টি, ২০২৪ সালে ২৭টি এবং ২০২৫ সালে ১৪টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সাল ছাড়া অন্য সব বছরেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য ফাঁসের ঘটনা বেশি ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২০টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে টিজিআই। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৩টি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৭টি। এসব তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন–সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টিজিআইয়ের প্রতিবেদনে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে থাকা জাতীয় তথ্যভান্ডারে সরাসরি অনুপ্রবেশের প্রমাণ না মিললেও তৃতীয় পক্ষের যাচাইব্যবস্থা ও প্রবেশাধিকারে নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে।

এমএইচএইচ/এআর