জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাতের আধারে মুখোশধারীদের হামলায় একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একটি সমিতির সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ও চিকিৎসক নাসরিন আখতার।
এ বিষয়ে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় হানিফ মিয়া ও অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখছে।
চিকিৎসক নাসরিন আখতার বলেন, ‘একটি মুখোশধারী দল ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে কেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রায় ২৫০ জনের মতো ছিল। ফলে সেখানে দায়িত্বে থাকা মাত্র দুই নিরাপত্তাকর্মী তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারেননি। এক পর্যায়ে তারা তাদেরকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে এবংর কেন্দ্রটির বিভিন্ন কক্ষ ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।’
তিনি বলেন, ‘ভাংচুরের পর তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, নথিপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। কেন্দ্রটির দখল নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।’
চিকিৎসক নাসরিনের দাবি, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও বিভিন্ন নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম ও পদ্ধতি, ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ে গেছে। এছাড়া ও কেন্দ্রটিতে থাকা প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও লুট করেছে।
কেন্দ্রটিতে থাকা একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, লুট হওয়া যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে।
এমআইকে/এএম