Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে হেলেন জেরিন খানের উত্থাপিত নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানি, ভাসমান সোলার ও এগ্রি-ভোল্টাইকসসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার বিশেষ শুল্ক সুবিধা দিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগামী ছয় মাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন, তাদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে কিনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করবে। এ ছাড়া সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প উন্নয়নের জন্য নির্দেশিকা ২০২৬ এবং বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা ২০২৫ জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নেট মিটারিং গাইডলাইন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিজনেস মডেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হুইলিং চার্জ ও ক্রস সাবসিডি চার্জের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের কাজ চলছে।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আগের অবস্থান পরিবর্তনের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্রকল্পের অব্যবহৃত অ্যাশ পন্ড এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফেনীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৩টি ভবনের ছাদে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের কোনো কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হবে না। পুরো সংসদ ভবনকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার শুধু বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে না, একই সঙ্গে দেশে নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

টিএই/এফএ