জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, ‘দেশত্যাগে আগ্রহী অভিবাসীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে এবং অনেকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য অবৈধ পথ বেছে নেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে আমরা গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’
শনিবার (২২ আগস্ট) জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার সহায়তায় সাংবাদিকদের জন্য ‘নতুন মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও প্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিষয়টি এবং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গণমাধ্যমের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ২০২৬ সালের এই আইন প্রণয়ন সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
কর্মশালায় নতুন আইনি কাঠামো সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণা আরও গভীর করার পাশাপাশি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ক্রমবর্ধমান জটিল ও আন্তঃদেশীয় প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিষয়টি আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সারভাইভারদের অভিজ্ঞতা, অধিকার ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে কেন্দ্র করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচিত হয়।
নতুন আইন বিষয়ে মূল সেশন পরিচালনা করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে একটি পৃথক অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনও আনা হয়েছে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান ট্রাইবুনালের বিচারক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যার মতো আনুষঙ্গিক অপরাধ, যা আগে ট্রাইবুনালের এখতিয়ারের বাইরে ছিল, এখন সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক অপরাধ হিসেবে ট্রাইবুনালের বিচারকের মাধ্যমে বিচারযোগ্য করা হয়েছে।’
কর্মশালার একটি সেশন পরিচালনাকালে অপরাধী চক্রগুলো কীভাবে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মানুষকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছে তা তুলে ধরা হয় ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু নোমান।
তিনি বলেন, ‘ভিসা সংগ্রহের জন্য জাল নথি তৈরি করা হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য তৈরি করে মানুষকে পাচার করা হচ্ছে। ’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই অপরাধ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
কর্মশালায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক এস কে তানভীর মাহমুদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঘটনাগুলো নিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক সময় অপরাধের দিকটি ভুক্তভোগীদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়।
কর্মশালার শেষ পর্বে বাস্তবভিত্তিক কেস আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের দিনব্যাপী আলোচনার বিষয়গুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রতিবেদনে প্রয়োগ করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও সারভাইভার-কেন্দ্রিক প্রতিবেদন তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এমআইকে/এএম