Dhaka Mail Logo

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫%

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

সরকার পরিচালনার ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমতের চিত্র উঠে এসেছে একটি জাতীয় জরিপে। সেখানে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট। তবে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম, ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

একই সঙ্গে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনমতে বিভক্তি রয়েছে। জরিপে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ সঠিক পথে চলছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশের মতে দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে ‘জনমত জরিপ: বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের প্রথম ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা বেশি

জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে তার কাজের জন্য সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অসন্তুষ্ট এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন

নিজের বেতনের ১০ শতাংশ ফেরত দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রায় সব শ্রেণিতেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার ৬০ শতাংশের বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে। এমনকি বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

PM1
শিশুদের একটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার তুলনায় সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির হার কম—৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

দেশ কোন পথে, বিভক্ত জনমত

দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে জনমতে বিভক্তি স্পষ্ট। ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন দেশ সঠিক পথে চলছে। অন্যদিকে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক দলভেদেও এ বিষয়ে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ দেশ সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিভাগভেদেও মতামতে পার্থক্য রয়েছে। ময়মনসিংহে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দেশ সঠিক পথে চলছে বলে মনে করলেও খুলনায় এ হার ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ

জরিপে নাগরিকদের কাছে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।

৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানকে বড় সমস্যা মনে করেন যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৬ ও ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।

সরকারের বিভিন্ন খাতের কাজের মূল্যায়নে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ, জ্বালানি ও গ্যাসে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিত্যপণ্যের দামের ক্ষেত্রে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তবে শিক্ষা খাতে সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

জরিপে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশের মতে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

আরও পড়ুন

গ্যালারি ছেড়ে মাঠে প্রধানমন্ত্রী, করমর্দন করে উচ্ছ্বাস নতুন কুঁড়িদের

তবে আগামী এক বছরে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। একইভাবে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা বেশি আশাবাদী।

জরিপ পরিচালনাকারীদের মতে, এই আশাবাদকে সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নতির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিফলন।

ফ্যামিলি কার্ড ও নতুন করনীতিতে সমর্থন

জরিপে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছেন। নতুন করনীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা।

PM3
সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তার বিষয়ে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা রাতে একা চলাচল করতে নিরাপদ বোধ করেন। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮২ শতাংশ মানুষ ধর্ম পালনে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। মুসলিমদের ক্ষেত্রে এ হার ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ।

বিরোধী নেতাদের নিয়ে জনমত

জরিপে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যথাক্রমে ৩২ দশমিক ১ ও ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো অবহিত নন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

‘সরকারের হানিমুন পিরিয়ড প্রায় শেষ’

জরিপের ফলাফল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেন, ‘জরিপ বলছে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড প্রায় শেষ। প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ গ্রহণযোগ্যতা সরকারের জন্য স্বস্তির খবর হলেও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পারফরম্যান্স নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আছে। মানুষ জীবন-জীবিকা ও সুশাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকারকে এই চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’

আরও পড়ুন

প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার হালচাল দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ শাহান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার এবং ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াৎ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড জানিয়েছে, আগস্ট মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রামে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউ (CATI) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের মার্জিন অব এরর ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো রাজনৈতিক দল বা মন্ত্রণালয়ের প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।

আরএনবি/জেবি