বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গ্যালারি ছেড়ে মাঠে প্রধানমন্ত্রী, করমর্দন করে উচ্ছ্বাস নতুন কুঁড়িদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্যালারি ছেড়ে মাঠে প্রধানমন্ত্রী, করমর্দন করে উচ্ছ্বাস নতুন কুঁড়িদের
প্রথা ভেঙে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে মাঠের পাশেই রাখা চেয়ারে বসে খেলা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী

কোমলমতি শিশুদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি দূর করে মাঠমুখী করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’। গত ২ মে সিলেটে শুরু হওয়া সেই আয়োজনের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি ঘটল আজ। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই জাতীয় পর্বের সমাপনী ও ফাইনাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খেলা শুরু হলেও সকাল থেকেই আর্মি স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। বিকেল ৪টায় ভেন্যুতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা করেন। সরাসরি গ্যালারিতে না গিয়ে তিনি সোজা মাঠে নেমে হেঁটে পুরো মাঠ ঘুরে দেখেন। এ সময় শত শত ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও শিশু দর্শক গ্যালারির সামনে রেলিংয়ের কাছে ছুটে আসে। শিশুরা হাত বাড়িয়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী পরম স্নেহে তাদের সঙ্গে হাত মেলান এবং হাত নেড়ে পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকদের অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীর এত কাছাকাছি আসা এবং তার সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিশু-কিশোররা।

হাত মেলানোর সময় ভিড়ের মধ্যে এক শিশুর পানির বোতল মাঠে পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে সেই বোতলটি কুড়িয়ে ওই শিশুর হাতে তুলে দেন; যা স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ও ক্যামেরায় ধরা পড়ে অনন্য এক মানবিক দৃশ্য তৈরি করে।

পরে কিছু সময় ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা পর্যবেক্ষণ করলেও শিশুদের উৎসাহ দিতে দ্রুতই নিচে নেমে আসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথা ভেঙে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে তিনি মাঠের পাশেই রাখা চেয়ারে বসে খেলা উপভোগ করেন।

PM2

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মধ্যকার বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ সরাসরি উপভোগ করেন। এর পাশাপাশি বালক ও বালিকাদের বহুল প্রতীক্ষিত ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালও তিনি প্রত্যক্ষ করেন। খেলা শেষে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র এবং থিম সং-এর সঙ্গে শিশু শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দেশের ৮টি ডিসিপ্লিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদকে (বয়স ১২-১৪ বছর) নিয়ে এই আসরের আঞ্চলিক পর্ব শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে বাছাইকৃত ১০টি অঞ্চলের প্রায় ১,৭০০ ক্রীড়াবিদ নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত হয় জাতীয় পর্ব। জানা গেছে, এই আসর থেকে উদীয়মান খেলোয়াড় বাছাই করে বিকেএসপির বিভিন্ন শাখায় নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বিইউ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর