Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মবের দাপটে ছয় মাসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ

মোস্তফা ইমরুল কায়েস

১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

  • মবের আতঙ্কে বেশির ভাগ ঘটনায় পুলিশ থাকছে নীরব
  • আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হচ্ছেন
  • ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না অনেক পুলিশ সদস্য
  • নানা কারণে ভেঙে পড়েছে পুলিশের মনোবল
  • যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, জবাবদিহি ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের দাবি

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ধস নামে। এরপর দীর্ঘ সময়েও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরও পুলিশের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে একধরনের জড়তা ও অনীহা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশে মব, সহিংসতা, প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) দেশে মব তৈরি করে মারামারি বা পিটুনির ১৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫০টি, খুলনায় ১৭টি, রাজশাহীতে ১২টি, রংপুরে ৫টি, চট্টগ্রামে ৩১টি, বরিশালে ১০টি ও ময়মনসিংহে ৯টি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে সারা দেশে মবের ঘটনা ছিল ১৯৮টি।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি থেকে জুনের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দেশে মব-সহিংসতা ও গণপিটুনির ২৬১টি ঘটনায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫৬ জন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের একই সময়ে এ ধরনের ১৪১টি ঘটনা ঘটেছিল। এতে নিহত হন ৬৭ জন এবং আহত হন ১১৯ জন।

মবের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না পুলিশ

আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর মবের হামলার ঘটনা ঘটছে। গত ২৯ জুলাই কুমিল্লার বরুড়ার আড্ডা বাজার এলাকায় মাদরাসার এক ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটকের খবরে ছুটে যায় পুলিশ। এ সময় অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশের ওপরও হামলা চালায় স্থানীয়রা। এ সময় পুলিশের সাত সদস্যকে মারধর করা হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

গত ২৩ জুলাই সকালে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে ধরে থানায় নিয়ে আসার পথে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

গত ১ মার্চ গাজীপুরের শ্রীপুরের নিজমাওনা গ্রাম থেকে আসামি ধরে থানায় নিয়ে আসার পথে মব তৈরি করে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মব তৈরি করে সমুদ্রসৈকতের চরপাড়া ঘাটের কাছে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এসআই ইউসুফ আলীকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়। পরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেয় মব তৈরিকারীরা। যদিও এ ঘটনায় পরে ১০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। মবের প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

image

গত ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার ধুনট উপজেলার হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মব তৈরি করে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশ

গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের সদস্যরা মারধর ও মবের শিকার হয়েছেন। কখনো গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, কখনো মাদক মামলার আসামি আবার কখনো আদালতে আসামি নেওয়ার পথে। এছাড়া আসামিকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়েও পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

গত সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট) এমন ১১টি ঘটনা খুঁজে পাওয়া গেছে।

সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। তবে এর মধ্যে গত ১৭ জুন রাতে রাজধানীর আদাবরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বেশ আলোচিত। রাজধানীতে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের খবরে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়। সেদিন পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আদাবর থানার ওসিও গুরুতর আহত হন।

এছাড়াও চলতি মাসের ১৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনিতে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

image

এর আগেও ১৮ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গাউছিয়া ও আড়াইহাজারের উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিনগর বাজারে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে তাঁদের আবার আড়াইহাজারে নিয়ে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

আগের মাসে রাজধানীর অদূরে সাভারে গত ৯ জুন রাত পৌনে দুইটার দিকে মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে হামলার শিকার হন দুই পুলিশ সদস্য। এ সময় গ্রেফতার হওয়া আসামিকেও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তারও আগে গত ৬ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করলে পুলিশের ওপর হামলা করে তাঁদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে কাশিপুর ইউনিয়নের হাসেম বাগ এলাকায়।

গত ৫ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ অস্ত্র মামলার আসামি যুবদলের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেয় তার সমর্থকেরা। এ সময় তাদের হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। পুলিশের কাছ থেকে যাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই আসামি শামীম মিয়া (৪২) হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। শামীম মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।

গত ১ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্তে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একটি শটগান ছিনতাই করে দুষ্কৃতকারীরা। রাত দুইটার দিকে উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেদিন পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।

গত ২ জুলাই নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাট এলাকায় হত্যাসহ তিন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় আসার পথে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

২৯ জুন রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি চুরিকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে গেলে হামলার শিকার হয়।

গত ২২ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সীমানাঘেঁষা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে—এমন খবরে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে যায় পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ সময় তাঁদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। সেই হামলায় পুলিশ পরিদর্শকসহ পাঁচ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

গত ২১ এপ্রিল ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি কবির খানকে (৪৫) ধরতে যায় পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে আসার পথে আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর যা বলছে

পুলিশ কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে এবং মব প্রতিরোধে পুলিশ কীভাবে কাজ করছে, তা জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সাহাদাত হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেকাংশে উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা কখনো বেশি, কখনো কম হবে—ওঠানামা করবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা খুব কম। এজন্য আমরা কমিউনিটি পুলিশিংকে শক্তিশালী করছি। জনগণ যদি সচেতন হয় এবং সচেতনতা বাড়ে, তাহলে পুলিশ আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। আমাদের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এটা আমরা আরও জোরদার করব। আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে পারলে সবাই নিরাপদ থাকবে। এজন্য আমরা জনগণকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। তবে যেখানে যেখানে মবের ঘটনা ঘটছে, সেখানে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পুলিশ ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না কেন?

ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড়াও ঢাকার বাইরের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল দুই বছরে ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে বাকিদের মনোবল ভেঙে গেছে। তাঁরা আসামি ধরা, তদন্ত করা ও পুলিশকে চাঙা করতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির একজন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কিন্তু তারা যখন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে যাচ্ছেন, তখন ওপর থেকে চাপ আসছে। আবার তাদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সহিংসতা বা সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে বেশি বলপ্রয়োগ করলে সমালোচনা হচ্ছে। তাঁদের ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, পুলিশ কাজ করবে কীভাবে? কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বেশির ভাগ ঘটনায় পুলিশ হালকা অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কারণে অপরাধীরা বুঝে গিয়ে তাদের ওপর ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা করছে। পুলিশ প্রতিরোধ করতে পারছে না। ফলে তারা হামলার শিকার হচ্ছেন।

এছাড়াও ঢাকা জেলার বাইরে কর্মরত কয়েকজন এএসপি ও ওসি পদমর্যাদার কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পুলিশ সদস্যদের আসামি ধরার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা ভয়ে ঘটনাস্থলে যেতে চান না। তাদের ভাষ্য, আমরা মারা গেলে আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তা দেবে কে? এছাড়াও যানবাহন সংকট, লজিস্টিক সাপোর্ট কম এবং জনবল সংকটের কারণেও পুলিশ আগের মতো কাজ করতে পারছে না বলে মনে করছেন তাঁরা।

উত্তরণের উপায় কী?

তবে এই অবস্থা উত্তরণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে পুনরায় একটি জনবান্ধব, দক্ষ ও গতিশীল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি ও পেশাগত নিরাপত্তায় কাজের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক ভয় ও জড়তা দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

14

তারা বলছেন, যারা পদবঞ্চিত রয়েছেন, তাদের মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়ে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরিতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত তাঁদের।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেকোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের ছয় মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্থিতিশীল করা এবং সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পুলিশ এখনো সফল হয়নি।  

তিনি আরও বলেন, পুলিশের মধ্যে এখনো সমন্বয়হীনতা রয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের ঘাটতির পাশাপাশি পুলিশের মধ্যে একধরনের বিশ্বাসের সংকটও আছে। এসব সমস্যা অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করতে হবে। কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ যেসব জায়গায় রাজনৈতিক হামলার শিকার হচ্ছে, তা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন এই অপরাধ বিজ্ঞানী।  তিনি বলেন, পুলিশের পেশাদারত্ব বজায় রেখে কাজ করার সুযোগ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতি রাজনৈতিক বিবেচনায় না করে যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এতে পুলিশের সাহস ও মনোবল বাড়বে। পুলিশকে রাজনৈতিক ট্যাগ না দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এমআইকে/এআর