মো. মেহেদী হাসান হাসিব
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হলেও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে।
ফলে সংখ্যার হিসাবে ফলাফল স্পষ্ট হলেও এই প্রার্থিতার মধ্য দিয়ে উঠে আসছে রাজনৈতিক বার্তা, কৌশল ও ঐকমত্যের প্রশ্ন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে যেমন ছিলো সংসদ
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৪০টি আসনে জয় লাভ করলেও সরকার গঠনে প্রয়োজন ছিলো ১৫১টি আসন। এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারায় বিএনপি সেসময় জামায়াতের জয় লাভ করা ১৮ টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নেয়।
দেশের প্রথম নারী প্রধান মন্ত্রী হন খালেদা জিয়া
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার পর দেশের প্রথম প্রথম নারী প্রধান মন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। আর বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকে আওয়ামী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন পদ্ধতিতে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল।
পরে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে চালু হয় রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্বাচন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। এরপর ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালেও সাধারণ ভোটারদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরে আসে সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচনের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়েছিলো। সেই নিয়মেই ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে বসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট।
৯১-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি তাদের তৎকালীন স্পিকার আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী এবং পরে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সেময় আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার বিএনপির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিলো আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি বিরোধী দল। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকা প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় দলীয় রাজনীতিকের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বসানোর দাবি তোলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তবে বিএনপি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত থেকে না সরলে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে।
১৯৯১ সালে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হলেও সেসময় ভোটার হিসাব ছিলো জটিল। একদিকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতিকের পরিবর্তে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সামনে আনা হয়। অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করা নিয়ে যেসব সংসদ সদস্যের আপত্তি থাকতে পারে, তাদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধানে জয়
১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
আব্দুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ছিল ১৬৩ ভোট। অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে মাত্র ছয় ভোট বেশি পেয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। সংরক্ষিত নারী আসনসহ ওই সংসদে মোট ৩৩০ জন সদস্যের ভোটাধিকার ছিল। কিন্তু ভোট দেন ২৬৪ জন। অর্থাৎ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
জামায়াতের ভোট নিয়ে ছিল নানা আলোচনা
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল আলোচিত। মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার প্রশ্নে আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগ জামায়াতের ভোট চেয়েছিল বলে আলোচনা ছিল।
বদরুল হায়দার চৌধুরী ও আব্দুর রহমান বিশ্বাস দুজনই গোলাম আজমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলেও সে সময় আলোচনা হয়।
তবে সরকার গঠনে বিএনপিকে সমর্থন করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের সব সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। জামায়াতসহ কয়েকটি দলের অনেক সংসদ সদস্য ভোটে অংশ নেননি বলেও আলোচনা ছিল।
এরপর আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে সাধারণত একক প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংসদ কক্ষে আলাদা করে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনও হয়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন একক প্রার্থী থাকলে নির্বাচন কমিশন গেজেটের মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার আমলে কে রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ।
এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি করে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে মাত্র আট মাসের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রাষ্ট্রপতি হন ইয়াজউদ্দিন আহমদ।
২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ইয়াজউদ্দিন আহমদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এরপর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর রাষ্ট্রপতি হন জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।
প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ওই সময়ের ইসি কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। আর ‘নির্বাচনি কর্তা’ ছিলেন সে সময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ।
মিহির সারওয়ার মোর্শেদ সেই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, পঞ্চম সংসদের সদস্যদের ভোটে সে সময় নির্বাচন হয়েছিল। ওপেন ব্যালটে ভোট হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ করা হয়, যার অধীনেই তখন নির্বাচনটা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সে সময় অধিবেশন ছিল না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অধিবেশন ডেকে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সে সময় স্বতন্ত্র সংসদ হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদিন আহমদ ও বর্তমান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ভোট দিয়েছিলেন। ওপেন ব্যালটে ভোট হয় বলে আমরা কিন্তু দেখেছি, কে কাকে ভোট দিয়েছেন। ওটা দেখা যায়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে আর কীভাবে হবে?
বর্তমান নিয়মে কীভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার কেবল জাতীয় সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ কক্ষেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হয়। ভোটের সময় সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে এবং নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।
প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। স্পিকারও এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। ভোট গণনা প্রকাশ্যেই করা হয়। সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ভোট সমান হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ নিয়ে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি তার পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন: তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তার উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। একাদিক্রমে হোক বা না হোক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবেন না।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যসহ ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় একজন নির্বাচিত প্রার্থীর অযোগ্য হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের কোনো ভোটার নেই।
সংসদে সাধারণ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ২১১ জন, জামায়াতের ৬৮ জন, এনসিপির ৬ জন, অন্যান্য দলের ৭ জন ও স্বতন্ত্র সাতজন রয়েছে। আর সংরিক্ষত আসনে বিএনপি ও সমমনাদের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩জন ও স্বতন্ত্র একজন সদস্য রয়েছে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্টতা রয়েছে বিএনপি ও সমমনাদের। তাই বলা যায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপরও যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ২০ আগস্ট ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচন আয়োজনে ‘নির্বাচনি কর্তা' প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন চলাকালে নির্বাচনের প্রয়োজন হলে কমিশন ভোটগ্রহণের অন্যূন সাতদিন পূর্বে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আর সংসদ অধিবেদশ না থাকলে ভোটগ্রহণের দিনে স্পিকারের সঙ্গে অন্যূন্য সাতদিন পূর্বে আলোচনা করে সংসদের বৈঠক সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা আহ্বান করবে।
ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়িতে ব্যালটের ক্রমিক, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। ভোটের অংশে প্রার্থীদের নামের পাশে জায়গায় সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
তিনি জানান, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সদস্যদের কাছে ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার পর তারা স্বাক্ষর করে তিনটি ব্যালট বাক্সের যে কোনো একটিতে ভোট দেবেন। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিক গণনা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের বৈধ ভোট ও প্রার্থীদের পাওয়া ভোট সিইসি ঘোষণা করবেন। পরে সচিবালয়ে গেজেটের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
পরাজয় নিশ্চিত যেনও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের হার প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পরেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন,বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায়। ১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই, বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে জিতবো কি হারবো এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে যা বলছে বিএনপি
বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে সরকার দলীয় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচিত হচ্ছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংসদ গঠন করেছি, সংসদে আজকে দেশের কার্যক্রম চলছে এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবাই পরিশ্রম করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ১১ দলীয় জোট পরাজিত হবে জেনেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদেরকে অভিন্দন জানাই।
আরও পড়ুন: জাহাজ ভাঙা শিল্পে কেন বারবার দুর্ঘটনা?
বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে যেখানে প্রস্তাবক হিসাবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করে দুটি মনোনয়নপত্র পত্র জমা দিয়েছেন। দুটি মনোনয়নে প্রস্তবক হিসাবে রয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আর সমর্থক হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।
গত ২৪ জুলাই ২২ তম রাষ্ট্রপতি মো. সহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল দেয় ইসি।
এমএইচএইচ/এআরএম