Dhaka Mail Logo

জাতীয়

৩ বছর পর স্কুলছাত্র আশরাফুল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তে জানা গেছে, আশরাফুলকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম (৫৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহজাদপুরের জামিরতা বাজার এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যার পর রফিকুল মোবাইল ফোনে আশরাফুলকে একাধিকবার ফোন করেন। পরে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে জামিরতা বাজারে নিয়ে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি আশরাফুল।

রাতে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করেও তাকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন আশরাফুলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে আশরাফুলের বাবা শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আশরাফুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা রফিকুলের কাছে গিয়ে তার বিষয়ে জানতে চান। তবে রফিকুলের কথাবার্তা ও আচরণে তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। দীর্ঘদিনেও আশরাফুলের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা নাছিমা খাতুন ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি।

সিআইডি বলছে, মামলাটি ছিল ক্লু-লেস এবং শিশু অপহরণের মামলা। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও আশরাফুলের অবস্থান বা তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে মামলার এক নম্বর আসামি রফিকুলের ভূমিকা বিশেষভাবে সামনে আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার নেপথ্যে থাকা তথ্য বেরিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল জানিয়েছেন, আশরাফুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, আশরাফুল আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। বিষয়টি রফিকুলের কাছে অপমানজনক ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে সিআইডিকে জানিয়েছেন।

সিআইডির কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে আশরাফুলকে ডেকে যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রফিকুল। সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধের প্রভাবে আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে যমুনা নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নদীর স্রোতে তার মরদেহ ভেসে যায় বলে রফিকুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

তদন্তে রফিকুলের বিরুদ্ধে অতীতের একটি গুরুতর অপরাধের তথ্যও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। প্রায় সাত-আট বছর আগে উল্লাপাড়া থানার এলাকায় মন্টু মিয়ার বাড়িতে তাঁতের কাজে সহযোগিতা করার সময় তার বড় ছেলে শাহিনের সঙ্গে রফিকুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।

পরে শাহিনের বিয়ের বিষয় জানতে পেরে রফিকুল ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনের পুরুষাঙ্গের অংশবিশেষ কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মন্টু মিয়া বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৩ জুন শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুলের সাত বছরের কারাদণ্ড হয় এবং তিনি সাজা ভোগ করেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘গ্রেফতার রফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্কুলছাত্র আশরাফুলের মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’

এমআইকে/এমআই