নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না; পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘মাদক ও ইন্টারনেটে আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধানের যে পথে’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, শুধু পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন ও পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, পুলিশ দিয়ে ভালো মানুষ তৈরি করা যায় না। বরং একবার পুলিশের খপ্পরে পড়লে কেউ কেউ আরও খারাপ হয়ে বের হয়ে আসতে পারে। এছাড়া তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, পাঠাগার, পাঠচক্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি এলাকায় পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে। খারাপ আড্ডার পরিবর্তে পাঠচক্রের আয়োজন করতে হবে। রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুলজয়ন্তীর মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজন করা প্রয়োজন। এসব কার্যক্রম তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
পরিবারের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে পরিবারের প্রতি সন্তানের জবাবদিহিতা বেশি ছিল। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে দেরি হলে সন্তানকে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হতো। পকেটে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া গেলেও বাবা-মা জানতে চাইতেন, টাকা কোথা থেকে এসেছে। কিন্তু এখন সেই পারিবারিক শাসন ও জবাবদিহিতা অনেকটাই কমে গেছে। তরুণদের সঠিক পথে রাখতে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে প্রথমে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আরও পড়ুন
ঢাকা দক্ষিণকে সবুজে ভরে তোলার ঘোষণা আব্দুস সালামের
৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার নতুন বাজেট দিচ্ছে ডিএসসিসি
নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাদক, ইন্টারনেট আসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, যে নিজেকে জয় করতে পেরেছে, পৃথিবীতে মহামানব তারাই হয়েছে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে। মেধাবী তরুণেরা বিদেশে চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা ভালো বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবী হতে পারে, তাদের দেশেই থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।
জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। লক্ষ্যহীন জীবন মানুষকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা জীবনের কোনো বাধাকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। হতাশা থেকেই অনেক সময় মানুষ মাদকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে একজন মানুষও যদি নিজের জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও তা সমাজের জন্য বড় অর্জন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আপনি নিজে সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে, পরিবার সুস্থ থাকলে সমাজ সুস্থ থাকবে। আর সমাজ সুস্থ থাকলেই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে।
এএইচ/জেবি