# বিগত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ১৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা
# আগের ৫টি বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার ছোট
# আয়ের ওপর ভিত্তি করে নতুন বাজেটের ব্যয় নির্ধারণ, বাজেটে ঘাটতি থাকছে না
# জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি সূত্র বলছে, বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে এই বাজেট প্রনয়ণ করা হয়েছে। মূলত আয়ের ওপর ভিত্তি করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।
বিগত অর্থবছরের ডিএসসিসির বাজেট ছিল ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ১৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। তবে আগের পাঁচটি অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেট অনেকটা কম।
এটিই হচ্ছে নতুন সরকারের আমলে ডিএসসিসির প্রথম বাজেট। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিএসসিসির বাজেট ছিল অন্তর্র্বতী সরকারের আমলের। অন্তর্র্বতী সরকারের নিয়োগ করা প্রশাসক ওই বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
নতুন বাজেট ঘোষণা করবেন বিএনপি সরকারের নিয়োগ করা প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগরভবনে এই বাজেট ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাজেট দিয়েছিল ডিএসসিসি। তৎকালীন প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া ওই বাজেট ঘোষণা করেন, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় আকার কম ছিল।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেওয়া ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৬ হাজার ৭৬০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, ওই বাজেট থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৯১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বাজেট কমেছিল।

ডিএসসিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ছিল।
নতুন বাজেট সম্পর্কে ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা ঢাকা মেইলকে বলেন, আগে আয় ৪ হাজার ধরা হলে বাজেট ৬ হাজার টাকা ধরা হতো। ২ হাজার সরকারের কাছ থেকে আনার চেষ্টা করা হতো। এতে ঘাটতি বাজেট হতো। কিন্তু এবার আয় অনুযায়ী ব্যয় ধরা হচ্ছে। কোনো ঘাটতি বাজেট রাখা হচ্ছে না। অর্থাৎ, বাস্তবসম্মত বাজেট করা হচ্ছে।
ডিএসসিসির বিগত অর্থবছরের বাজেটে অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩২০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সেখানে মোট সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া, সরকারি ও বিশেষ বরাদ্দ থেকে আয় ১২৭ কোটি এবং অন্যান্য আয় ৭৯.৫৫ কোটি টাকা ধরা হয়।
ওই বাজেটে মোট পরিচালন ব্যয় ধরা হয় ৬৩৫.৩৩ কোটি টাকা। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় ৮৭৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি সরকারি ও বৈদেশিক সহায়ক উন্নয়ন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয় ১৪৬৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা, সমাপনী স্থিতি (এফডিআরসহ) ৮৪৫ কোটি ১৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি টাকা।
ডিএসসিসি সূত্র বলছে, নতুন বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি নতুন অর্থবছরের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএনসিসির বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে গত ১৬ জুলাই নতুন বাজেট ঘোষণাকালে ওই বাজেটকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
এএম/এএইচ




