Dhaka Mail Logo

জাতীয়

তিন বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ, তবু বাড়ল ব্যয় ও সময়সীমা

আব্দুল হাকিম

০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ এএম

  • ৬৪০ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেবে
  • তিন বছরেও শুরু হয়নি মূল নির্মাণকাজ
  • সিভিল ওয়ার্কসেও বরাদ্দ ৩১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
  • প্রশিক্ষণ শেষে হবে ৮০ শতাংশের কর্মসংস্থান
  • প্রশিক্ষণার্থীদের ৩০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা

দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া তরুণ-তরুণীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই শুরু হয়েছিল ‘মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল রাজধানীর মিরপুরে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। 

সরকারি অর্থ ও ইউসেপ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন মিলিয়ে প্রকল্পটির জন্য ৪১ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প শুরুর তিন বছর পার হলেও এখনো মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অথচ এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে এক বছর। 

পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম সংশোধনী অনুমোদনের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থান পরিবর্তন, ভবনের নকশা সংশোধন, নতুন প্রশিক্ষণ ট্রেড যুক্ত করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে গেছে। ফলে যে প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা ছিল, সেটিই তিন বছর পরও মূল অবকাঠামো নির্মাণে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী, প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণ দৃশ্যমান হওয়ার আগেই ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

নথিতে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে স্থান পরিবর্তন, ভবনের নকশা সংশোধন, নতুন ট্রেড অন্তর্ভুক্তি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু একটি প্রকল্প অনুমোদনের পর এর স্থান, ভবনের নকশা ও কাজের পরিধির মতো মৌলিক বিষয় পরিবর্তন হওয়ায় পরিকল্পনার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এসব বিষয় প্রকল্প অনুমোদনের আগেই চূড়ান্ত করার কথা।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এই অগ্রগতির মধ্যে মূল ভবন নির্মাণ, প্রশিক্ষণ ল্যাব, শ্রেণিকক্ষ কিংবা ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপনের মতো বড় কোনো কাজ নেই। এ সময় পর্যন্ত জমির প্রাথমিক উন্নয়নসহ কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে জিওবি ও ইউসেপ বাংলাদেশের অর্থায়ন থেকে মোট ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যয়ের বড় অংশ গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, পরিচালনা কমিটির সভা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে। অর্থাৎ প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হলেও তার বড় অংশের দৃশ্যমান ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

জমির প্রাথমিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকার কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ, সেই কাজই এখনো শুরু হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং আর্থিক ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।

প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় ব্যয় ধরা হয়েছে ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য সিভিল ওয়ার্কসে। সংশোধিত প্রস্তাবে এ খাতে ৩১ কোটি ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনতে ৪ কোটি টাকা, অফিস ও শ্রেণিকক্ষের আসবাবপত্রে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ৫০ লাখ টাকা এবং জমির উন্নয়ন কাজে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীর বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। কিন্তু মূল নির্মাণকাজই শুরু না হওয়ায় এসব বড় ব্যয়ের কার্যক্রম এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। নথিতে বলা হয়েছে, সিভিল ওয়ার্কস এবং ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রধান কার্যক্রম ২০২৫ সালের জুনের পর শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্প শুরুর প্রায় দুই বছর পরও প্রধান অবকাঠামোগত কাজ শুরু করার প্রস্তুতিতেই ছিল প্রকল্পটি।

প্রকল্পের ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে নথিতে স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। শুরুতে প্রকল্পটি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি ঢাকার মিরপুরে স্থানান্তর করা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও মিরপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে যৌথ মূল্যায়ন কমিটি। ভূমির স্থায়িত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নৈকট্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত মিরপুরকে বেছে নেওয়া হয়। 

ইউসেপ বাংলাদেশের নিজস্ব জমি থাকায় এই স্থানকে উপযুক্ত মনে করা হয়। তবে প্রশ্ন হলো, মিরপুর যদি এতটাই উপযুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে প্রকল্প অনুমোদনের আগে কেন স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়নি। স্থান পরিবর্তনের পর নতুন করে ভূমি মূল্যায়ন, প্রকৌশল সমীক্ষা, স্থাপত্য নকশা, ব্যয় প্রাক্কলন এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়েছে। এতে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে গেছে।

স্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি ভবনের নকশাতেও বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ নতুন কাঠামোর ওপর ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনের উচ্চতার কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদফতরের ২০২২ সালের সংশোধিত দরতালিকা অনুসরণ করে নতুন করে নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। 

এসব পরিবর্তন একদিকে প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা জটিল করেছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজ শুরুর সময়ও পিছিয়ে দিয়েছে। নথিতে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর পেছনেও এসব পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমন একটি অবস্থায় রয়েছে, যেখানে বড় ধরনের নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের অটোমোটিভ মেকানিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, কেয়ার গিভিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসের পাশাপাশি নতুন করে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং ডেটা সায়েন্স-অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড বিগ ডেটা ট্রেড যুক্ত করা হয়েছে। মোট ছয়টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রেড যুক্ত করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য সফটওয়্যারভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, জব প্লেসমেন্ট সেল এবং মাইগ্রেশন ডেস্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে ভবন, ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেগুলোর বড় অংশই এখনো তৈরি হয়নি। ফলে পরিকল্পনায় আধুনিকতার সংযোজন ঘটলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত।

প্রকল্পে মোট ৬৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও স্বল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী এবং ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ জন প্রশিক্ষককে প্যাডাগোজি বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অন্তত ৮০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীর সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণই শুরু না হওয়ায় এসব লক্ষ্য অর্জনের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এখন দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে হবে।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুটি গাড়ির পরিবর্তে একটি গাড়ি ভাড়ায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রকল্প মেয়াদে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে। ভ্রমণ ব্যয় ৬০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। যানবাহন খাতের ব্যয়ও কমানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পরিচালন খাত থেকে মোট ১৫৪ দশমিক ৭৮ লাখ টাকা সাশ্রয়ের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব সাশ্রয়ের পরও প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা। অর্থাৎ কিছু খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থান পরিবর্তন, নকশা সংশোধন, নতুন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে।

প্রকল্পের অর্থবছরভিত্তিক ব্যয়ের পরিকল্পনাতেও দেখা যায়, সবচেয়ে বড় ব্যয় এখনো সামনে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ দশমিক ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৬০১ দশমিক ০৯ লাখ টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২০৯ দশমিক ৩১ লাখ টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৫০ দশমিক ০৬ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৪ দশমিক ৪১ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৪৩ দশমিক ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী বছরগুলোতেই প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা। অথচ তিন বছর পার হওয়ার পরও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় এত বড় পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয় করে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জনবল ব্যবস্থাপনাতেও প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রম অধিদফতরের তিনজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্প পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক ও হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ইউসেপ বাংলাদেশের অর্থায়নে ৩৬ জন চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প সমন্বয়কারী, ইনস্টিটিউট প্রধান, প্রকৌশলী, প্রশিক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত এই জনবল কাঠামোর আওতায় থাকবেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক সালাউদ্দীন মাহমুদ বলেন, প্রকল্পটির স্থান পরিবর্তন ও নকশা সংশোধনের কারণে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। তবে প্রথম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে এসব বিষয় সমন্বয় করা হয়েছে। এখন সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সে লক্ষ্যেই প্রচলিত ট্রেডের পাশাপাশি ডেটা সায়েন্স-অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড বিগ ডেটা এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং)-এর মতো নতুন ট্রেড যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন, ভবনের নকশা সংশোধন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সংযোজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত মেয়াদের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার ওপর এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এএইচ/এএস