- জমি হস্তান্তরের জটিলতায় পিছিয়েছে নির্মাণকাজ
- বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না পরিকল্পনা
- বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা
- সমন্বিত ইউটিলিটি ম্যাপ না থাকাই বড় সমস্যা—আইএমইডি
- ব্যর্থ পরিকল্পনার আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধেই পড়ে
- সংশোধনের অপেক্ষায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
রাজধানী ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নেওয়া হয়েছিল হাজার কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে ভূগর্ভে কেবল স্থাপন, নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমলেও সরকারি মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা, ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল না মেলায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বলছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থাকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক করা। কিন্তু পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে সীমাবদ্ধতার কারণে বেড়েছে ব্যয় ও সময়, কমেছে প্রত্যাশিত সুফল।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজ শুরুর পর দেখা যায়, গ্যাস, পানি, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি লাইনের অবস্থান প্রকল্পের নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নকশা সংশোধন, লাইন স্থানান্তর ও নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এতে কাজ ধীর হয়, ব্যয়ও বাড়ে। আইএমইডির মতে, প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য সমন্বয় ও হালনাগাদ জরিপ করা হলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। বাস্তবতার সঙ্গে পরিকল্পনার এই ফারাকই প্রকল্পটির অন্যতম বড় দুর্বলতা।
প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপন, নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ এবং পুরোনো অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। এতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বেড়েছে এবং ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমেছে। তবে আইএমইডির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দৃশ্যমান এসব সাফল্যের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি, নকশা পরিবর্তন, অতিরিক্ত কাজ এবং সময় বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়েছে। বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি ও কেবল আমদানি এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন প্যাকেজের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগের পর মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতেও বিলম্ব হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে একই সড়কে একাধিক সংস্থার খননকাজ, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। এতে প্রকল্পের সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি জনদুর্ভোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইএমইডির মতে, প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় অনেক ঝুঁকি বিবেচনায় আনা হয়নি। ফলে কাজ শুরুর পর ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, ভূমি জটিলতা ও নকশা পরিবর্তনের মতো সমস্যা একের পর এক সামনে আসে। এতে কর্মপরিকল্পনা বারবার সংশোধন করতে হয়েছে এবং ব্যয় বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতির মিল ছিল না। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের দরপত্র দীর্ঘায়িত হওয়ায় পুরো প্রকল্প পিছিয়ে যায়। পরে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে খননকাজের অনুমতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতায় কাজ বারবার বন্ধ রাখতে হয়েছে।
আইএমইডির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকল্পের বড় অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে কাজের গতি বাড়লেও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বড় অবকাঠামো প্রকল্পে শুরু থেকেই ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখাই কার্যকর ব্যবস্থাপনার অন্যতম সূচক।
আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি ব্যবস্থার সমন্বিত ডিজিটাল মানচিত্র না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। অনেক এলাকায় খননকাজ শুরুর পর দেখা যায়, মাটির নিচের গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগ লাইনের অবস্থান পূর্বের তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। ফলে নতুন জরিপ, নকশা সংশোধন ও বিকল্প পদ্ধতি নিতে হয়েছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিও প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়েছে। আইএমইডির পর্যবেক্ষণ, এসব ঝুঁকি আগেই যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হলে অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ এড়ানো সম্ভব ছিল।
মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক খননের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন, ধুলাবালি, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তির অভিযোগ ওঠে। অনেক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার পরও সড়ক পুনর্বাসনে বিলম্ব হওয়ায় জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সাময়িক এই দুর্ভোগ মেনে নিতে হয়েছে।

আইএমইডির মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে শুধু প্রকৌশলগত সক্ষমতা নয়, জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এ জন্য কাজের সময়সূচি, বিকল্প যান চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে দক্ষ জনবল, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে আইএমইডি বলেছে, অবকাঠামোগত অগ্রগতি হলেও বিনিয়োগের তুলনায় প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের সময় যে আর্থিক সুবিধার হিসাব করা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা কমে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ায় নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রত্যাশিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পেতেও বিলম্ব হয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমেছে এবং উন্মুক্ত তার কমে যাওয়ায় নগরের সৌন্দর্যও বেড়েছে। তবু আইএমইডির পর্যবেক্ষণ, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি প্রকল্প সফল হয় না; সময়, ব্যয় ও লক্ষ্য—এই তিন সূচকেই সফল হতে হয়।
ভবিষ্যতের জন্য আইএমইডি রাজধানীর সব ইউটিলিটি সংস্থার সমন্বিত ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর তথ্যভান্ডার বা ইউটিলিটি ম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেছে। এতে ভবিষ্যতের প্রকল্পে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের অবস্থান আগেই জানা যাবে। ফলে একই জায়গায় বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, নকশা পরিবর্তন ও অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি কমবে।
এ ছাড়া প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু কারিগরি সম্ভাব্যতা নয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ইউটিলিটি জটিলতা, জনদুর্ভোগ, পরিবেশগত প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকিও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
ডেসকোর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বর্তমান স্থাপিত ক্ষমতা ২ হাজার ৯০০/৪ হাজার ৬০ এমভিএ। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৭৬ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যমান ১৩২/৩৩ কেভি ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। এ কারণে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় নতুন গ্রিড ও উপকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় চারটি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র এবং একাধিক ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের ২ হাজার ২৭২ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়ন করছে ১ হাজার ২৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং সরকার দিচ্ছে ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)কে।
প্রকল্পের আওতায় খিলক্ষেত, ডুমনি, পল্লবী, বারিধারা, উত্তরা, টঙ্গী ও পূর্বাচল এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি পেতে দীর্ঘসূত্রতা, জমি হস্তান্তরের জটিলতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিলম্ব এবং বিদেশি ঋণচুক্তি কার্যকর হতে দেরি হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ ও অন্যান্য বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক করার বিকল্প নেই। তবে সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এমন প্রকল্পে ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়বে, অথচ জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না। তাঁদের মতে, ডেসকোর এই প্রকল্প ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, কারণ বড় বাজেটের প্রকল্প মানেই সফলতা নয়; সফলতা নির্ভর করে পরিকল্পনার মান, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো সিদ্ধান্তের ওপর।
আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন জটিলতা। সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে সময়মতো রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি না পাওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপনের খননকাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষা মৌসুমে রাজউক ও সিটি করপোরেশন রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিচ্ছে না। তবে বর্ষা শেষে অনুমতি মিললে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করছে। যেসব প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই বা মৌলিক অসংগতি রয়েছে, সেগুলো বারবার সংশোধনের পরিবর্তে যৌক্তিকতা যাচাই করে প্রয়োজন হলে বাতিল করাই ভালো। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয় ও সম্ভাব্য সুফল জনসমক্ষে পর্যালোচনার ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। তাই যাদের অবহেলা, অদক্ষতা বা সিদ্ধান্তগত ত্রুটির কারণে ব্যয় বেড়েছে ও প্রকল্প বিলম্বিত হয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে অযৌক্তিক ব্যয়ের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এএইচ/এআর




