Dhaka Mail Logo

জাতীয়

তিন বছর ধরে গতিহীন ১২ উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা

আব্দুল হাকিম

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

তিন বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। প্রকল্পের সময়ের সিংহভাগ শেষ। ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার বেশি। অথচ বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৩১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। দেশের পাঁচ বিভাগের ছয় জেলার ১২টি উপজেলার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি এখন ধীরগতির বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন ও বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১ জুলাই শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ৪ হাজার ৪২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের। কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হলেও ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৩১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের বড় অংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কাজের এক-তৃতীয়াংশও শেষ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় উপ-আঞ্চলিক পরিকল্পনা, স্ট্রাকচার প্ল্যান, নগর এলাকার পরিকল্পনা, অ্যাকশন প্ল্যান ও গ্রামীণ পরিকল্পনাসহ পাঁচটি স্তরে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ফিজিক্যাল ফিচার সার্ভে, আর্থ-সামাজিক জরিপ, পরিবহন সমীক্ষা, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জিও-টেকনিক্যাল স্টাডি, ভূমি ব্যবহার বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, এসব কার্যক্রমের বড় অংশ এখনো চলমান। অনেক ক্ষেত্রে জরিপ শেষ হলেও বিশ্লেষণ, খসড়া পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রকল্পের মোট সময়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ অতিক্রান্ত হলেও অগ্রগতি ৩১ শতাংশে সীমাবদ্ধ। ফলে বাকি অল্প সময়ে সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অনুমোদন নেওয়া, স্থানীয় মতামত যুক্ত করা এবং চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী করে প্রস্তুত করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ক্রয় পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন জরিপ কার্যক্রমের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কমিশনের মতে, অনেক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার পরিবর্তে সমান্তরালভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সময় সাশ্রয় সম্ভব হতো। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুরুতেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। দরপত্র মূল্যায়ন, প্রশাসনিক অনুমোদন, চুক্তি সম্পাদন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান সৃষ্টি হয়। এরপর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ক্রয় পরিকল্পনা, সমন্বয় কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন জরিপ কার্যক্রম শুরু হলেও সেগুলোর অগ্রগতি প্রত্যাশিত ছিল না। এই বিলম্ব প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়নকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।

আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও একাধিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা, সময়সূচি এবং প্রকল্প নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে কি না এবং ক্রয়কৃত সেবা ও পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সেগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পটি শুধু ১২টি উপজেলার জন্য একটি পরিকল্পনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি। এই পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে ভূমি ব্যবহার, সড়ক নেটওয়ার্ক, পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নাগরিক সুবিধা এবং নগর সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। ফলে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ বিলম্বিত হলে তার প্রভাব ভবিষ্যতের বহু উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর পড়বে।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ১২টি উপজেলায় ৪৯টি কী-ইনফরম্যান্ট ইন্টারভিউ (কেআইআই), ছয়টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মশালা এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন, বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যান এবং উন্নয়ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এত বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহের পরও পরিকল্পনা প্রণয়নের গতি আশানুরূপ না হওয়ায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বিশেষ করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত না হলে পরিকল্পনাগুলোর কার্যকারিতা কমে যাবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, প্রকল্পটির নকশা ও বাস্তবায়ন কাঠামোর মধ্যেই কিছু মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১২টি উপজেলা বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন করায় পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ ও সমন্বিত উন্নয়নের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এতে পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার সুযোগও সীমিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬-এর আলোকে জেলা বা অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘসূত্রতা, জনবল সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দরপত্র মূল্যায়নে বিলম্ব প্রকল্পের বাস্তবায়নকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের সময় বাস্তব চাহিদা, পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ পর্যাপ্তভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মেয়াদ না বাড়ালে মুখ থুবড়ে পড়বে চার গ্যাস কূপ খনন প্রকল্প

মেট্রোরেলের ৭৩০ বেয়ারিং প্যাডে ত্রুটি, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পরিকল্পিত উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন নিজেই বাস্তবায়ন সংকটের মুখে। প্রকল্পের সময়ের অধিকাংশ শেষ হলেও অগ্রগতি এক-তৃতীয়াংশেরও কম। পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির পর্যবেক্ষণ বলছে, বাস্তবায়নে গতি না এলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা কঠিন হবে। ফলে উন্নয়নের যে নকশা ভবিষ্যতের পথ দেখানোর কথা, সেটিই এখন ধীরগতির কাদায় আটকে পড়েছে। উন্নয়নের চাকা সচল করতে হলে শুধু সময় বাড়ালেই হবে না, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতায়ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।

নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহমুদ আলী বলেন, প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নের পর্যায়েই কিছু মৌলিক দুর্বলতা ছিল। একই সঙ্গে অধিকাংশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় প্রকল্পের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকার পরিবর্তনের সময় দরপত্রের চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নও পিছিয়ে যায়। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনজন প্রকল্প ব্যবস্থাপকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। ফলে ক্রয় কার্যক্রম ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আনার চেষ্টা চলছে।

এই কর্মকর্তা  বলেন, দীর্ঘদিন নগর উন্নয়ন অধিদফতরের নিজস্ব কোনো আইন ছিল না। গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালে স্থানিক পরিকল্পনা আইন পাস হওয়ায় ভবিষ্যতে সব মাস্টারপ্ল্যান ওই আইনের আওতায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও নগর পর্যায়ে যে পরিকল্পনাগুলো নেওয়া হয়েছে, তার অনেকগুলোই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাহিদার ভিত্তিতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রণীত হয়েছে। ফলে প্রকৃত উন্নয়ন চাহিদাসম্পন্ন অঞ্চলগুলো উপেক্ষিত থেকেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রভাব পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

PP
প্রকল্পের ধীরগতিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

মো. মাহমুদ আলী আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ একই কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রকল্পে ১২টি উপজেলা বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যা নতুন স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উপজেলা নয়, বরং বিভাগ বা জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সেটি আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হতো।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদ হোসেন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, দরপত্র মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ কারিগরি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নযোগ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থানিক পরিকল্পনা আইন কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

এলজিইডির প্রতিনিধিরা বলেন, উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকর করতে সড়ক, ড্রেনেজ, বাজার, জনসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।

উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানান, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরিকল্পনাগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুন

বাস্তুচ্যুতের নামে ব্যয়ের মহোৎসব, লাগাম টেনে ধরল পিইসি

হাজার কোটি টাকা গিলে খাচ্ছে জলাবদ্ধতা!

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু অর্থ ব্যয় করাই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনই প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য। এখানে সময়ের বড় অংশ শেষ হয়ে গেলেও অগ্রগতি মাত্র ৩১ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন একটি ভিত্তিমূলক কাজ। এই পরিকল্পনার ওপর ভবিষ্যতের সড়ক, নগর সম্প্রসারণ, শিল্পাঞ্চল, পরিবহন নেটওয়ার্ক, কৃষি, পরিবেশ ও জনসেবার রূপরেখা নির্ভর করবে। ফলে এই পর্যায়েই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রমেও পড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আক্তার মাহমুদ বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নির্মাণকাজের কারণে দেশের কৃষিজমি, জলাভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এসব সম্পদ সংরক্ষণে বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার বিকল্প নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ের পরিকল্পনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও একটি সমন্বিত ভৌত মহাপরিকল্পনা থাকা জরুরি, যার মাধ্যমে নদী, খাল, বন, পাহাড়, সমতল ভূমি সংরক্ষণ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রথম শর্তই হলো একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনা। তবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই হবে না, সেটিকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় এনে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত জনবল, কারিগরি সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে।

এএইচ/জেবি