images

জাতীয়

জাল ভিসায় ইতালি পাঠানো চক্রে বিমানের কর্মকর্তা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

জাল ভিসা দিয়ে ইতালি পাঠানোর চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) নামে এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তার বাড়ি  জামালপুরের বকশীগঞ্জে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানা এলাকার নিলক্ষীয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আখলাছুর বিমান এয়ারলাইন্সের  গ্রাউন্ড সার্ভিসের জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বুধবার সিআইডির সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইন্সভেস্টিগেশন বিভাগের এসপি বদরুল আলম মোল্লা।

আখলাছুরকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তিনি ইতালিতে জাল ভিসায় লোক পাঠানোর চক্রের অন্যতম সদস্য। এই কর্মকর্তার সহায়তায় বিমানবন্দরে লোকজনকে পার করে দেওয়া হতো। সম্প্রতি দুই ভুক্তভোগী জাল ভিসায় গিয়ে ইতালি বিমানবন্দর থেকে ফেরত এলে বিষয়টি চাউর হয়। তাদের একজন বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করলে সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আখলাছুরের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। এরপর তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। 
 
সিআইডি কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, আখলাছুরকে গ্রেফাতরের পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ঢাকায় আনা হয়েছে। তারা মূলত জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান করে আসছিল। সেই চক্রের অন্যতম সদস্য এই আখলাছুর।  

 

মামলায় যে অভিযোগ: সম্প্রতি তিনজনকে জাল ভিসায় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের একজন কোনোভাবে দেশটিতে ঢুকে যায়। তবে দুজনের জাল ভিসা প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৬ মে ফেরত আসতে হয়। তাদের একজন ফেরত এসেই ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা  করেন। সেই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যের সঙ্গে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করেন তারা। 

চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা দেন। পরে চক্রটির কাছ থেকে তারা নেপালগামী ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করেন। গত ২৬ মে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ইতালির রোম ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্টে সংযুক্ত শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে তাদের আটক করে দুদিন হেফাজতে রাখা হয় এবং ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ৩০ মে তাদের একজন মামলা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে এসপি বলেন, সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। একইসঙ্গে মানবপাচার, জাল ভিসা, অভিবাসী চোরাচালান কিংবা এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডিকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। 

এমআইকে/ক.ম