images

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সংলাপে বসছে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

১৬ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ নাকি ইউনিয়ন পরিষদ—কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ভাবনায় রয়েছে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে জনগণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে আয়োজন করা বেশি জরুরি ও উপযোগী হবে, সে বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে—কোন কোন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী এবং কোনগুলো নয়, তা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কমিশন আইন ও বিধি সংশোধনের কাজও শুরু করেছে। এসব কাজ শেষ হলে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করা হবে। যেহেতু বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য এবং বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাই কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে করা হবে, তা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংলাপে রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সূত্র আরও জানায়, সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং কয়েক ধাপে তা সম্পন্ন করা হবে। সে হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আর আইন-বিধি সংশোধনের কাজ ঈদুল আজহার পরপরই শেষ হতে পারে। এরপর অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করা হতে পারে।

কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে নির্বাচন শুরু করতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব প্রতিষ্ঠানে জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আমরা আগে করতে চাই। নির্বাচনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করব—কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন

দলীয় বাদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়ছে প্রতীকের সংখ্যা

স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ইসি

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা এটাও করতে পারি যে, পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে শুরু করতে পারি। আবার বর্ষা শেষ হলে কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও আগে করতে পারি। আবার দুটি নির্বাচন একসঙ্গেও করা যেতে পারে। আমরা এখন বিধি প্রণয়নের কাজ করছি। এগুলো শেষ হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব হবে।’

সরকার থেকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোনো বার্তা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার থেকে এখনো কোনো বার্তা পাইনি। এখন বর্ষার সময়। সে হিসাবে অক্টোবর-নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।’

Vote2
ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হতে এ বছরের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে। তবে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে ১০ মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিতে আসছে ‘ব্যাপক পরিবর্তন’

আরপিও পুনর্লিখনের ভাবনা ইসির

জানা গেছে, নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসেবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএইচএইচ/জেবি