ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সরকারের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাতে না চাইলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কমিশন সভায় আলোচনা করেছি। সেখানে আইন সংশোধনসহ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে এ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। তবে সিটি নাকি পৌরসভা দিয়ে এ নির্বাচন শুরু করা হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজনসংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই চিঠি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিয়েছিল। নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইন-বিধি সংশোধনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকার নির্দেশ দিলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা যায়।
আরও পড়ুন: মৃত ভোটার ইস্যুতে সক্রিয় ইসি, আসছে নতুন কর্মপন্থা
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৮১টি। যার মধ্যে চলতি বছরই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩৭৫৫টি, আর আগামী বছরে উপযোগী হবে ৩৪৯টি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৫ উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১ জেলা পরিষদ এখনই নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন করতে ইসিতে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে বিএনপির সরকার থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এছাড়া ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলে ৬১ জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার এসে ৬১টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৪২টিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরব্যাপী ধাপে ধাপে করা হবে। এর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি রাখব। দলীয় প্রতীক নাকি নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে—তার জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছি। আইন অনুযায়ী ভালো নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুত থাকবে।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার পক্ষে দলগুলো
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা নির্বাচিত সরকার হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে হওয়া উচিত বলে মনে করি। আমরা এটি করতে চাই, তবে কিছু আইনগত জটিলতার কারণে সময় লাগছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে এই নির্বাচনগুলো বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করেছে। দলীয় প্রতীক নয়, সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তাবনা করেছে। এই অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এরপর সেগুলো বিশেষ কমিটিতে রয়েছে। সংসদ সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদ আইন আকারে অধ্যাদেশগুলো পাস করার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে যখন আমাদের মন্ত্রণালয়ে আসবে, তখন সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নেব, ইনশাআল্লাহ।
এমএইচএইচ/এআর

