সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দলীয় বাদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়ছে প্রতীকের সংখ্যা

মো. মেহেদী হাসান হাসিব
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

Election
প্রতীকের সংখ্যা বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে এই নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে সেটা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিল। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। এবার সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।

চলতি বছর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক সংকট কাটাতে একসঙ্গে বেশ কিছু প্রতীক যুক্ত করে বিধিমালা সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন। তখন স্থানীয় নির্বাচনের বেশ কিছু প্রতীক জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার হয়। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক সংখ্যায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এজন্য এবার বিধিমালা সংশোধন করে প্রতীকের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে দলীয় যত প্রতীক আছে সেগুলো স্থানীয় নির্বাচনের তালিকা থেকে বাদ দেবে সংস্থাটি।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ইসি

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বারবার প্রতীক বৃদ্ধি নিয়ে জটিলতা এড়াতে ৬৯টি প্রতীক থেকে ১১৯টি প্রতীকে উন্নীত করা হয়। ৫০টি নতুন প্রতীক সংসদ নির্বাচনে যুক্ত করা হয়, যার বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকে নেওয়া। এছাড়া নতুন করে কিছু প্রতীকও যুক্ত করা হয়। এভাবে প্রতীক বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায় কিছু শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া যেহেতু সংসদে অধ্যাদেশ পাস হয়েছে, এজন্য সব দলীয় প্রতীকও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের বিধিমালা সংশোধনের সময় বাদ দেওয়া হবে।

Vote2

তারা আরও জানান, সংসদে অধ্যাদেশ পাস হওয়ায় এখন নিশ্চিত যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার থেকে নির্বাচন আয়োজনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো না হলেও কিছু পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন। যাতে কোনো সিদ্ধান্ত আসামাত্র নির্বাচনের আয়োজন করা যায়।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা এখনো স্থানীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। তবে সংসদে অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের বিধিমালা থেকে সকল দলীয় প্রতীক বাদ যাবে।’

সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংখ্যা বাড়াতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে—এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে কি না এবং প্রতীক বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো আলোচনা করিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক থেকে কতগুলো নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যদি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে করা হবে; আর প্রয়োজন না হলে করা হবে না।

আরও পড়ুন

মৃত ভোটার কর্তনে ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা ইসির

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, দলীয় প্রতীকের বাইরে থাকায় একটা সময় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় ছিল এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কম ছিল। তবে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক যুক্ত করা হয়, তখন সহিংসতা ও সংঘাতের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ঝগড়া-বিবাদ ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় আবারও নির্দলীয় পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ এসেছে। এতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন করে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও দেখা দেবে। তবে বাস্তবে সব দল সমানভাবে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

Vote3

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি, আর আগামী বছরে উপযোগী হবে ৩৪৯টি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

এনআইডি নিবন্ধন ফরমে আসছে বড় পরিবর্তন

ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও তা নির্ভর করে সরকারের ওপর। সরকার চাইলে নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকারে এসে ৬১টি জেলা পরিষদের মধ্যে ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে আবার নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

এমএইচএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর