মো. মেহেদী হাসান হাসিব
১৩ মে ২০২৬, ০৭:০১ এএম
# পোস্টার ও ইভিএম বাদ
# থাকছে না অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান
# স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য লাগবে না ভোটারদের স্বাক্ষর
# বাড়ছে জামানতের পরিমাণ
# এমপিদের ওপর থাকবে বিধিনিষেধ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে হবে-তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অধ্যাদেশ সংসদে পাস হওয়ার পর নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা আচরণবিধি রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখন সবগুলোর জন্য একটি সমন্বিত আচরণবিধি করা হচ্ছে। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটার সমর্থন হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে বিধানও আর থাকবে না। প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ানো হবে।
সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ যুক্ত করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইন-বিধান সংস্কার করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন, বিধিমালা এবং আচরণবিধিতে কী ধরনের সংশোধন করা হবে বা কী ধরনের সংশোধন প্রয়োজন, তা নিয়ে বুধবার (১৩ মে) আমাদের একটি বৈঠক আছে। সে বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে একটি খসড়া তৈরি করা হবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।
এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হবে, যাতে যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন।
জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেকোনো নাগরিক ২ থেকে ৫ হাজার টাকা জামানত জমা দিয়ে প্রার্থী হতে পারেন। এতে ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। একদিকে আমাদের ব্যালট ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে মানুষের ভোট দিতে সময়ক্ষেপণ হয়। সেটি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘এছাড়া আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। যেমন-পোস্টার থাকবে না, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি থাকবে না এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ন্যূনতম ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।’
রাহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমি মনে করি, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য একটি সমন্বিত আচরণবিধি থাকা উচিত। সেটিই আমি প্রস্তাব করব। বর্তমানে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, অনধিক ৫ লাখ ভোটার রয়েছে এমন নির্বাচনী এলাকার মেয়র পদপ্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা। একইভাবে ভোটার ৫ লাখ ১ থেকে ১০ লাখ হলে জামানত ৩০ হাজার, ভোটার ১০ লাখ ১ থেকে ২০ লাখ হলে ৫০ হাজার এবং ভোটার ২০ লাখের বেশি হলে ১ লাখ টাকা জামানত নির্ধারিত রয়েছে। আর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার অনধিক ১৫ হাজার হলে ১০ হাজার টাকা, ১৫ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার হলে ২০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটার হলে ৩০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার ১ ও তদূর্ধ্ব ভোটারের ওয়ার্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়।
সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। ২০২৪ সালে আউয়াল কমিশন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিল।
পৌরসভা নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ২৫ হাজার ভোটার সম্বলিত নির্বাচনী এলাকার জন্য ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটারসম্বলিত নির্বাচনী এলাকার জন্য ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার ১ থেকে ১ লাখ ভোটারসম্বলিত নির্বাচনী এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং ১ লাখ বা তদূর্ধ্ব ভোটারসম্বলিত নির্বাচনী এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত নির্ধারণ করা আছে।
কাউন্সিলর নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা আর সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা এবং সদস্য বা মহিলা সদস্য পদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিদের জন্য আসছে নতুন বিধিনিষেধ
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, উপজেলা পরিষদে এমপিদের অফিস থাকে। এতে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে। নির্বাচনের সময় এমপিরা যাতে উপজেলা পরিষদে না যান বা কম যান, সেটিও নির্বাচনী আচরণবিধিতে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ আছে ৪ হাজার ৫৮১টি। চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে ৩৪৯টি।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
এমএইচএইচ/এমআর