মো. মেহেদী হাসান হাসিব
১২ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
দেশের নির্বাচনব্যবস্থার মূল আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ বা আরপিও নামে পরিচিত। এটি জটিল আইনি ভাষার কারণে সাধারণ মানুষসহ নির্বাচনি কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বুঝতে কষ্ট হয়। এমন বাস্তবতায় শুধু ধারাবাহিক সংশোধনের পথ না ধরে বর্তমান সময়ের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় সহজ, স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষায় আরপিও পুনর্লিখনের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুনভাবে আইনটি সাজানো হলে তা শুধু প্রয়োগেই নয়, বোঝাপড়ার ক্ষেত্রেও আরও কার্যকর হবে বলে মনে করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (১১ মে) নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর আলোকে লব্ধ অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এমন ভাবনার কথা উঠে আসে। ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে এতে অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। পরে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে লব্ধ অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে আরপিও পুনর্লিখনের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে।
আরও পড়ুন
ভোটের মাঠে আবারও থাকতে চায় বিএনসিসি, আগ্রহ কম ইসির
এনআইডি ফরমে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে দাওরা-এমবিবিএস ডিগ্রিও
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও সমর্থনের বিধান বাদ দিয়ে নির্দিষ্টভাবে ১ হাজার ভোটারের সমর্থন বা স্বাক্ষর নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগেই জমা নিশ্চিত করতে একদিন আগে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার বিধান করার প্রস্তাব এসেছে। এতে শেষ দিনের জটিলতা কমবে এবং অনেকে মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাও কমবে বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনি প্রশিক্ষণ নির্বাচনের আগেই সুবিধাজনক সময়ে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের দিন তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নির্বাচন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে শেষ হওয়ায় তা বাস্তবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, কর্মশালার একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) বলেন, আমাদের নির্বাচনের প্রধান আইন আরপিও এতটাই জটিল যে, সহজে বোঝা কঠিন। ১৯৭২ সালের আরপিও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার সংশোধন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন সময় এসেছে এটিকে সহজবোধ্য ভাষায় পুনর্লিখনের।
সূত্র জানায়, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবেলায় গণমাধ্যমের সহায়তা নেওয়া এবং পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম নীতিমালা বাস্তবতার আলোকে পুনর্নির্ধারণের সুপারিশও এসেছে কর্মশালায়। পাশাপাশি এসব নীতিমালাকে বিধিমালায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
আরও পড়ুন
দলীয় বাদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়ছে প্রতীকের সংখ্যা
স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ইসি
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন উল্লেখ করে তা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনি সাংবাদিক কার্ড পেতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই প্রত্যয়নপত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ থাকতে হবে।
শুদ্ধ ভোটার তালিকা প্রণয়নে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং এজন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশও এসেছে। একই সঙ্গে সারা বছর মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এমএইচএইচ/জেবি