images

জাতীয়

মৃত ভোটার কর্তনে ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা ইসির

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

ভোটার তালিকার শুদ্ধতা ও সঠিকতা বজায় রাখতে তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি এখন বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় ধর্মীয় গুরু যেমন ইমাম ও পুরোহিতদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর ঢাকামেইলকে বলেন, ভোটার হালনাগাদে অনেকে মৃত ভোটারের তথ্য দিতে চায় না এই ভেবে যে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলে তাদের এনআইডি নিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তীতে কোনো কারণে মৃত ব্যক্তির এনআইডি প্রয়োজন হলে তা আর তারা ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ভয় দূর করার জন্য আমরা কিন্তু এখন আর এনআইডি ফেরত নিই না।

মৃত ভোটার কর্তনের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ভোটার হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সম্মানী দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যারা এ কাজে যুক্ত থাকবেন, তাদের সারা বছরই সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৭৩০৯ জন

তিনি আরও জানান, মৃত ভোটার শনাক্তে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে চৌকিদাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, কারণ তারা নিয়মিত থানা ও উপজেলায় তথ্য দেন। তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় গুরু—যেমন ইমাম ও পুরোহিত—মৃত্যুর তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকেন। তাই তাদের তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। সঠিক তথ্য প্রদানের ভিত্তিতে তাদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসপাতাল থেকেও মৃত্যুসনদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। একইভাবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, যারা বাড়ি বাড়ি যান, তাদের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া সম্ভব। বড় শহরের কবরস্থান পরিচালনাকারীদেরও এ কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উৎস ব্যবহার করা গেলে মৃত ভোটার শনাক্ত করা সহজ হবে।

তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি ফরম পূরণ করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

ইসি জানিয়েছে, সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী তথ্য সংগ্রাহকরা একজন নতুন ভোটারের জন্য সমতলে ৫০ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ৭০ টাকা পান। মৃত ভোটারের ক্ষেত্রে সমতলে ২০ টাকা এবং দুর্গম এলাকায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সুপারভাইজাররা নতুন ভোটারের জন্য সমতলে ১২ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ১৮ টাকা এবং মৃত ভোটারের জন্য সমতলে ৭ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ১২ টাকা পান। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ ফরম ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রাহকরা ৪০ টাকা এবং সুপারভাইজাররা ৮ টাকা পান।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক বছরে তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে ইসি। এতে প্রায় ৬০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর গণমাধ্যমে মৃত ভোটারের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন (সিইসি) বলেছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আলোচনা-বিতর্ক চলেছে। কিন্তু আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে যেনতেন নির্বাচন দিলে চলবে না। আমরা সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলাম। ভোটার তালিকা হালনাগাদে সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছি। এদের নামে ভোট দেওয়া হতো। এগুলো আমরা বাতিল করেছি।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

এমএইচএইচ/এআর