জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
জ্বালানি তেলের সংকট বাড়লে অফিস-শপিংমল বন্ধে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে যে সংকটগুলো হতে পারে, সেটা না করে দেখা। যদি সংকট বাড়তে থাকে, এই অফিস বলেন বা মার্কেট বলেন, সব ক্ষেত্রেই আমরা হয়তো আরও টাফার (কঠিন) সিদ্ধান্ত নেব বা নিতে হতে পারে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে কেন নিচ্ছি, নিয়ে কী অর্জন করছি। এই বার্তাগুলো জনগণের কাছে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সেই চেষ্টা অবশ্যই করব।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দেখতে চাইছি। জ্বালানির মূল্য সারা পৃথিবীর অনেকে বাড়ালেও আমরা অন্তত আরও এক মাসের জন্য বাড়াচ্ছি না। আমরা আরেকটু অপেক্ষা করতে চাইছি।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জ্বালানির সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এটা অস্বাভাবিক নয়। এখন মানুষ কতটুকু তেল কিনছে, তা জানার জন্য ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালু করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এই ভীতি বা সংশয় আছে যে, জ্বালানির সরবরাহ কী অনেক কমে গেছে? যে আমরা এত বড় লাইন দেখছি, এটা কি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না? এটা একটা প্রশ্ন। যদি আমরা তুলনা করি, ২০২৫ এবং ২০২৬-এর মধ্যে। ডিজেল ২০২৫ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন। মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই, কিন্তু সেটা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে তা না। অকটেন ৩৬ হাজার ৯৮২ টন ছিল ২০২৫-এর মার্চে। মানে আমরা দুটো বছরের মার্চকে তুলনা করছি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে, ৩৭ হাজার ৪৩৯ টন। পেট্রোলে গত বছর মার্চে ছিল ৪৬ হাজার ৩৭১ টন, এটা এই মার্চে হলো ৩৯ হাজার ৯৯৮ টন। এটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তার মানে আমরা এটা বলতে চাই, আমাদের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে। কিছুটা। শব্দটা আসলেই ‘কিছুটা’। ৪৬ হাজার থেকে যখন ৩৯ হাজার হয়, ৭ হাজার কমে আসে। ৭ হাজার কমে আসলে এটা ১০ শতাংশের খানিকটা বেশি, ১৫ পারসেন্টের মতো একটু কম সরবরাহ আছে। এটা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় খুব অস্বাভাবিক না। কিন্তু এই যে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা-পরিস্থিতিটা ওরকম না।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পেট্রোল-অকটেন নেই এমন নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া কেউ কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে অবৈধ মজুত, পাচারসহ নানা অসৎ উপায় অবলম্বন করছে। তবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, অনেকেই যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তুলছেন-পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের জ্বালানির দাম কম হলে পাচারের ঝুঁকি থাকে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের শঙ্কা; ভবিষ্যতের চিন্তায় অনেকেই অতিরিক্ত কিনে মজুত করছেন। অর্থাৎ মূলত এটি প্যানিক বায়িং ও মজুত করার প্রবণতা।
জ্বালানি তেল অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৬ এপ্রিল সকালে মজুদের পরিমাণ ছিল ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ টন, পেট্রোল ১৩ হাজার ৮০৫ টন।’
মানুষ কতটুকু তেল কিনছে, তা জানার জন্য ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ফুয়েল অ্যাপ ছাড়া কেউ জ্বালানি কিনতে পারবে না। এতে জানা যাবে কতটুকু তেল নেওয়া হচ্ছে।’
বিগত সরকারের গাফিলতির কারণে হামের টিকার সংকট শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সারাদেশে ৩ মে থেকে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি। এসময় কৃষককার্ডের জন্য ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা। তাছাড়া দুদক পুনর্গঠিত হওয়ার পর শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতিই নয়, বর্তমান সরকারের সময়েও কোনো দুর্নীতি হলে তারও তদন্ত হবে বলেও উল্লেখ্য করে তিনি।
এএম/এমআই